সুন্দর চোখ, মেকআপে একটু কাজল, আইলাইনার, মাসকারা কিংবা রঙিন কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করলেই চেহারার পুরো অভিব্যক্তি বদলে যায়। তাই দৈনন্দিন সাজে চোখের দিকে বাড়তি মনোযোগ থাকে অনেকেরই। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা কি চোখের স্বাস্থ্যের কথা যথেষ্ট ভাবছি? একটু অসাবধানতাই চোখের জন্য ডেকে আনতে পারে সংক্রমণ, অস্বস্তি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও। এ বিষয়ে কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা।
চোখের মেকআপ সরাসরি চোখের খুব কাছাকাছি ব্যবহার করা হয়। তাই এখানে সামান্য ভুলও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ কাজল, মাসকারা বা আইশ্যাডো ব্যবহার করেন, যা চোখে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে মাসকারা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। একইভাবে অন্যের সঙ্গে মেকআপ শেয়ার করাও চোখের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো ঘুমানোর আগে মেকআপ না তোলা। চোখে মেকআপ রেখে ঘুমালে চোখের পাতা ও চোখের পৃষ্ঠে ময়লা জমে যায়, চোখ শুষ্ক হয়, জ্বালা বাড়ে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়।
কাজল-আইলাইনার ব্যবহারে কোথায় ভুল হয়?অনেকে চোখের ভেতরের ওয়াটারলাইনে কাজল বা আইলাইনার ব্যবহার করেন। এতে সাময়িকভাবে চোখ বড় ও আকর্ষণীয় দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে এটি চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করতে পারে। চোখের গ্রন্থিগুলো বন্ধ হয়ে গিয়ে ড্রাই আই বা চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ধারালো বা শক্ত ব্রাশ দিয়ে আইলাইনার লাগাতে গিয়ে চোখে আঁচড় লাগার ঘটনাও বিরল নয়, যা চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চশমার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, আবার সৌন্দর্যের জন্য রঙিন লেন্সের জনপ্রিয়তাও কম নয়। কিন্তু লেন্স ব্যবহারে একটু অসচেতনতা চোখের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
অনেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লেন্স পরে থাকেন, লেন্স পরিষ্কার না করেই ব্যবহার করেন কিংবা লেন্স পরেই ঘুমিয়ে পড়েন। এসব অভ্যাস চোখে সংক্রমণ, চোখ লাল হওয়া, তীব্র ব্যথা এমনকি কর্নিয়ার ক্ষত পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাজের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত রঙিন কন্টাক্ট লেন্স চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
চোখের সংক্রমণের লক্ষণ বুঝবেন যেভাবে চোখ লাল হয়ে যাওয়া চোখে জ্বালা বা চুলকানি অতিরিক্ত পানি পড়া ঝাপসা দেখা আলোতে চোখে অস্বস্তিএসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চোখের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
এই ছোট সতর্কতাগুলোই চোখকে রাখতে পারে সুস্থ ও নিরাপদ।
চোখের সৌন্দর্য বাড়ানো দোষের কিছু নয়, কিন্তু সেই সৌন্দর্য যেন চোখের ক্ষতির কারণ না হয় এটা নিশ্চিত করা আমাদেরই দায়িত্ব। সামান্য সচেতনতা আর সঠিক অভ্যাস চোখকে যেমন সুন্দর রাখে, তেমনি দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। মনে রাখবেন, সুস্থ চোখই আসল সৌন্দর্য।
জেএস/