বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ কয়েকটি দক্ষিণ এশীয় দেশকে এখন ‘অ্যাসেসমেন্ট লেভেল থ্রি’ বা ‘সবচেয়ে উচ্চ ঝুঁকির’ দেশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গত ৮ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। এখন থেকে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনগুলো আরও কঠোর নথিপত্র যাচাই ও তদারকির মুখে পড়বে।
কী পরিবর্তন এলো?বাংলাদেশ: লেভেল ১ থেকে লেভেল ৩-এভারত: লেভেল ২ থেকে লেভের ৩-এনেপাল: লেভেল ২ থেকে লেভের ৩-এভুটান: লেভেল ২ থেকে লেভের ৩-এশ্রীলঙ্কা: লেভেল ১ থেকে লেভেল ৩-এপাকিস্তান: আগে থেকেই লেভেল ৩-এ রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদন মূল্যায়নে ‘কান্ট্রি এভিডেন্স লেভেল’ (অ্যাসেসমেন্ট লেভেল)-এ সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো ‘উদীয়মান নথি বৈধতা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে’ এবং ‘সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের সহায়তা নিশ্চিত করতে’ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন>>স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপ-আমেরিকার কড়াকড়ি, বিকল্প হতে পারে যেসব দেশচীনে ‘ফুল ফ্রি স্কলারশিপে’ উচ্চশিক্ষা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্তইউরোপের কম পরিচিত যে দেশে সহজেই মেলে ভিসা
অ্যাসেসমেন্ট লেভেল থ্রি মানে ভিসা আবেদনগুলোর নথি, আর্থিক ও একাডেমিক তথ্যাদি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এছাড়া আবেদনকারীর ‘জেনুইন টেম্পরারি এন্ট্রান্ট’ বা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের আসল উদ্দেশ্য কী বা সেই কাজ শেষে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার আগ্রহ কতটা, সে বিষয়ে যাচাইয়ের মাত্রা বাড়বে।
শিক্ষা খাতে উদ্বেগআন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা অস্ট্রেলিয়ার এই পরিবর্তনের সময় ও প্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা সমিতির (আইইএএ) প্রধান ফেল হানিওউড বলেন, ‘এই পরিবর্তনের ফ্রিকোয়েন্সি ও অস্থিতিশীলতার কারণে নিশ্চয়তার অভাব তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের প্রথম ইনটেকের সময় যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পনা, রিক্রুটমেন্ট ও এজেন্টদের সঙ্গে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রদানকারীদের স্থিতিশীলতা ও পরিষ্কার নীতিগত সংকেত প্রয়োজন, যাতে তারা যথাযথভাবে পরিকল্পনা করতে পারে এবং নতুন ভিসা নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করতে পারে।
সরকারের যুক্তিঅস্ট্রেলিয়ার সরকারি পক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু উৎস দেশ থেকে নথি জাল বা অসত্য তথ্যের প্রবণতা চোখে পড়েছে। তাই ‘ভিসা ইনটিগ্রিটি’ রক্ষা করার জন্য আরও কঠোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া এখন বিশ্বের বড় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি। তাই দেশটি প্রতারণা রোধে নথিপত্র যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্য দেশগুলোর তুলনায় অস্ট্রেলিয়া একটু বেশি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য গন্তব্য হিসেবে তৈরি হয়েছে এবং সেই কারণেই ঝুঁকি যাচাই আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?অ্যাসেসমেন্ট লেভেল থ্রি–এ যাওয়ার ফলে আবেদনকারীদের:
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে আরও বিস্তৃত ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অন্যান্য কাগজপত্র দিতে হতে পারে। ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। ‘জেনুইন টেম্পরারি এন্ট্রান্ট’ যাচাই বাড়তে পারে।এসব কারণে ভিসা প্রক্রিয়া ধীরগতি হতে পারে, আবেদনকারীদের খরচ বাড়তে পারে এবং কিছু প্রার্থীর কাছে এটি অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সূত্র: অস্ট্রেলিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডন, অস্ট্রেলিয়া সরকারকেএএ/