আন্তর্জাতিক

ইরানে বিরোধীদের সমর্থন করায় ইউরোপের ৪ দেশের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতদের জরুরি তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে বেশকিছু ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে প্রকাশিত বিবৃতির পরই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূতদের ডাকা হয়। বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা বিক্ষোভের কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করে দাবি করেন, এগুলো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সীমা ছাড়িয়ে সংগঠিত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে নিযুক্ত এসব দেশের রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমে এ বিষয়টি নিজ নিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানাতে এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনসূচক সরকারি বিবৃতি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

ইরান সরকার সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে বিদেশি প্রভাবিত উসকানি বলে দাবি করলেও পশ্চিমা দেশগুলো বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দিচ্ছে। এক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এ আন্দোলনকে আরও ধ্বংসাত্মক করতে দাঙ্গাকারীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে।

এদিকে বিক্ষোভ দমনে গত বৃহস্পতিবার(৮ জানুয়ারি) থেকে ইরানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে সাম্প্রতিক আন্দোলনের তথ্য প্রকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। ২০২২ সালের পর এটিই দেশটির ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমানে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে তা শুরু হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর। সম্প্রতি ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড অবমূল্যায়ন ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া দেশটির গ্রান্ড বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করে যা পরে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে ডলার–রিয়াল বিনিময় হার ১ ডলারে ১ লাখ ৪৫ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের এ বিক্ষোভে হতাহত ও গ্রেফতারের সরকারি কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকার সংগঠন এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৪৪ জন নিহত ও এক হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার ৬৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কেএম