তথ্যপ্রযুক্তি

হ্যাকারের নজর জি-মেইল অ্যাকাউন্টে, সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

বর্তমান সময়ে জি-মেইল শুধু একটি ইমেইল সেবা নয় এটি আমাদের ডিজিটাল জীবনের কেন্দ্র। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া, অফিসিয়াল কাজ, ব্যক্তিগত ছবি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নথি সবকিছুর প্রবেশদ্বার হয়ে উঠেছে জি-মেইল। তাই এই একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে পুরো ডিজিটাল পরিচয়ই ঝুঁকিতে পড়ে যায়। সাইবার অপরাধীরা নানাভাবে জি-মেইল দখলের চেষ্টা করে। তবে কিছু সচেতনতা ও সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহজেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুনজি-মেইল নিরাপত্তার প্রথম ধাপ হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। অনেকেই নিজের নাম, জন্মতারিখ বা সহজ সংখ্যা দিয়ে পাসওয়ার্ড সেট করেন, যা হ্যাকাররা কয়েক সেকেন্ডেই ভেঙে ফেলতে পারে। পাসওয়ার্ডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা উচিত। একই পাসওয়ার্ড কখনোই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করবেন না।

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুনটু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকলে শুধু পাসওয়ার্ড দিলেই জি-মেইলে ঢোকা যায় না। লগইনের সময় আপনার ফোনে একটি কোড পাঠানো হয়, সেটি না দিলে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ফলে হ্যাকার পাসওয়ার্ড জানলেও আপনার ফোন ছাড়া অ্যাকাউন্ট দখল করতে পারবে না। গুগল অ্যাকাউন্টের সিকিউরিটি সেটিংস থেকে এটি সহজেই চালু করা যায়।

সন্দেহজনক ই-মেইল ও লিংক থেকে দূরে থাকুনহ্যাকাররা সাধারণত ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে বলে ‘আপনার জিমেইল সাসপেন্ড হবে’, ‘নিরাপত্তা আপডেট করুন’ বা ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করুন’। এই ই-মেইলে থাকা লিংকে ক্লিক করলেই আপনার লগইন তথ্য চুরি হয়ে যায়। গুগল কখনোই ই-মেইলের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড চায় না। তাই এমন মেইল দেখলে সেটি খুলবেন না বা লিংকে ক্লিক করবেন না।

রিকভারি ফোন নম্বর ও ই-মেইল যুক্ত রাখুনযদি কখনো আপনার জি-মেইল হ্যাক হয় বা পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তখন অ্যাকাউন্ট ফেরত পেতে রিকভারি নম্বর ও ই-মেইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আপডেট না থাকলে অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই গুগল অ্যাকাউন্টে সবসময় সঠিক ফোন নম্বর ও বিকল্প ইমেইল যুক্ত রাখুন।

লগইন ডিভাইস ও অ্যাক্টিভিটি নিয়মিত পরীক্ষা করুনগুগল আপনাকে দেখায় কোথা থেকে, কোন ডিভাইস দিয়ে আপনার জি-মেইল ব্যবহার হচ্ছে। যদি সেখানে অচেনা কোনো লোকেশন বা ডিভাইস দেখতে পান, তাহলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং সেই ডিভাইস থেকে সাইন আউট করুন। এতে হ্যাকার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাক্সেস হারাবে।

থার্ড-পার্টি অ্যাপের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করুনঅনেক সময় আমরা বিভিন্ন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ‘সাইন ইন উইথ গুগল’ ব্যবহার করি। এতে তারা জি-মেইলের কিছু তথ্যের অ্যাক্সেস পায়। সব অ্যাপ নিরাপদ নয়। নিয়মিত দেখে নিন কোন কোন অ্যাপ আপনার জি-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো সরিয়ে দিন।

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্ক থাকুনফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে জি-মেইল লগইন করলে হ্যাকার সহজেই আপনার তথ্য চুরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যাফে, বিমানবন্দর বা হোটেলের ওয়াই-ফাইয়ে লগইন করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনে ভিপিএন ব্যবহার করুন এবং কাজ শেষে অবশ্যই লগআউট করুন।

নিরাপত্তা চেক করুনগুগল একটি ‘সিকিউরিটি চেকআপ’ ফিচার দেয়, যেখানে কয়েক মিনিটেই আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা অবস্থা যাচাই করতে পারেন। এতে দুর্বল পাসওয়ার্ড, ঝুঁকিপূর্ণ ডিভাইস ও অ্যাপ সম্পর্কে সতর্কতা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনগুগল পিক্সেল ১০: ইন্টারনেট ছাড়াই চালানো যাবে হোয়াটসঅ্যাপচাইলে আপনার জি-মেইল অ্যাকাউন্টের নাম বদলাতে পারবেন

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কেএসকে