ঢাকার পূর্বাচলের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর এখন পুরোদমে জমজমাট। মেলার ১১তম দিনে এসে ক্রেতা, বিক্রেতা আর নতুন উদ্যোক্তাদের পদচারণায় জমে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। সাশ্রয়ী দাম আর বিশেষ ছাড়ের টানে দুপুরের পর থেকেই মানুষের ঢল নামছে মেলায়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত বাণিজ্য মেলা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
মেলা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ৩০তম আসরের প্রথম দিকে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে ক্রেতা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। মেলার পঞ্চম দিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলায় লোকসমাগম বাড়তে থাকে। তবে শুক্র-শনিবার ছুটির দিন থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মাসব্যাপী এ মেলায় এখন প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতা, উদ্যোক্তা আর দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে বিশেষ অফার ও মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ব্লেজার, রান্নার সামগ্রী ও শিশুদের খেলনার দোকানে ভিড় সবচেয়ে বেশি।
মেলায় কেনাকাটা করছিলেন শামসুন্নাহার। তিনি জানান, তিনি প্রতিবছর সাংসারিক গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ জিনিসপত্রই বাণিজ্য মেলা থেকেই কিনে থাকেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, মেলায় একই ছাদের নিচে অসংখ্য নামি-দামি ব্র্যান্ডের পণ্য থেকে পছন্দের সেরাটাই বেছে নেওয়া যায়। অন্যদিকে বিশেষ অফার ও ছাড়ে ক্রয় করা যায়। এতে সাশ্রয়ী দামে বাজারের সেরা পণ্যটাই ঘরে তোলা যায়।
আড়াই হাজার থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছেন আশরাফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমরা চার বন্ধু মিলে চারটি ব্লেজার কিনলাম। পছন্দসই জিনিস বিশেষ ছাড়ে পেলে আরও কিছু কেনার ইচ্ছা আছে।
মেলায় আসা দর্শনার্থী শাহাবুদ্দিন বলেন, এখানে কেনা-কাটা করলে শত শত জিনিস দেখে পছন্দেরটাই কেনা যায়। আবার অফার ও ছাড়ে সাশ্রয়ী মূল্যেই কেনা যায়। শোরুমের মূল্য থেকে ১৫ পার্সেন্ট ছাড় পেয়েছি, তাই একটি এলইডি টিভি কিনলাম।
সাকুরা হান্ডি ক্যাপসের ম্যানেজার রাকিব হোসেন জানান, মেলার প্রথম এক সপ্তাহ তেমন বিক্রি হয়নি। শুক্রবার ও শনিবার বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। এমনিতে প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই মেলায় ক্রেতা বিক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মিলন মেলা ঘটে। তবে পুরোদমে বেচা-বিক্রি আগামী ছুটির দিনগুলো থেকে শুরু হতে পারে।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম হৃদয় জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম থেকেই ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনসমাগম তুলনামূলক কমই ছিল। এখন তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয়। এরই মধ্যে দুটি ছুটির দিনও আমরা পেয়েছি। শুক্র ও শনিবার এ দুদিন ক্রেতা দর্শনার্থীদের সন্তোষজনক উপস্থিতি ছিল। আশা করছি, আগামী ছুটির দিনগুলো থেকে মেলা পুরোদমে জমে উঠবে।
নাজমুল হুদা/কেএইচকে/জেআইএম