বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে মানবাধিকার ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, কমপ্লায়েন্স জোরদার, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ (এএবি)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান ও একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. প্রেজয়ান সেলিম, পরিচালক নাফিস-উল-দৌলা, পরিচালক শেখ রাসেল মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক রুমানা রশীদসহ বিজিএমইএ ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই সমঝোতার মাধ্যমে বিজিএমইএর ‘সাসটেইনেবল স্ট্র্যাটেজিক ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কারখানায় নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং সবার জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি হয়রানি ও বৈষম্যমুক্ত কর্মস্থল তৈরি করা এবং শ্রমিকদের নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
এছাড়া কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সবুজ অর্থায়নকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। শ্রমিকদের পেশাগত ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে তাদের সহায়তা প্রদানও এই সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একই সঙ্গে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিএসডিডি নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ মনিটরিং টুল ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি মালিক, শ্রমিক ও ক্রেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করা এবং নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে কারখানা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন আর শুধু উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং এটি টেকসই ও নৈতিক ব্যবসার একটি বিশ্বস্ত অংশীদার। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের কারখানাগুলোতে মানবাধিকার ও পরিবেশগত মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করতে চাই। অ্যাকশনএইডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘শ্রমিকদের সুরক্ষা ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করলেই এই খাতের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব। সকল অংশীজনকে নিয়ে আমরা এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।’
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে এবং বিজিএমইএ তার সদস্য কারখানাগুলোর অবকাঠামো ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।
আইএইচও/বিএ