কোনো শর্ত আরোপ ছাড়াই নির্ধারিত তারিখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রার্থীরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ ভবনের সামনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোহাদ্দেছ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’র ভিপি প্রার্থী দেলওয়ার হাসান শিশির, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’র ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ, সাধারণে ঐক্যস্বর প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ এবং স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা বলেন, ১২ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীগণ মনে করি, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে শাকসু নির্বাচনের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না।
এতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া কোনোভাবেই সম্মানজনক না। আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। এজন্য আমরা আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই। আমরা পূর্বনির্ধারিত সময়ে যে কোনো কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন কোনো শর্ত আরোপ ছাড়াই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাই।
এর আগে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) নির্ধারিত তারিখে শাকসু আয়োজনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সঙ্গে দেখা করেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজনে অনুমতি দিলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে শর্ত আরোপ করা হয় শাকসু নির্বাচনের প্রত্যেক প্যানেলের দুই থেকে তিনজন করে প্রার্থীদের সম্মিলিতভাবে অঙ্গীকারনামা পেশ করতে হবে।
অঙ্গীকারনামার তিনটি শর্তের মধ্যে ছিল—এক. শাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই;
দুই. শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে না; এবং
তিন. শাকসু নির্বাচনকালীন ও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে না।
এসএইচ জাহিদ/এসআর/জেআইএম