থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে আবারও ক্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন । এর আগে গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) একদিন আগেই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ক্রেন পড়ে হওয়া ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়। এতে দুই দিনে মোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সামুত সাখোন প্রদেশে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ দুর্ঘটনাটিতে একটি উঁচু সড়ক (এলিভেটেড হাইওয়ে) নির্মাণে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে নিচের সড়কের ওপর পড়ে। স্থানীয় পুলিশ সুপার কর্নেল সিত্তিপর্ন কাসি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সঙ্গেই একই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট’ জড়িত। বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাখোন রাচাসিমা প্রদেশে চীনের সাহায্যে নির্মিত উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি অংশ নির্মাণের সময় ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত একটি বিশাল ক্রেন ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনাটি প্যারিস ইন গার্ডেন হোটেলের সামনে ঘটেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে চারদিকে ধুলা ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সর্বশেষ দুর্ঘটনাস্থল রামা টু এক্সপ্রেসওয়েতে বর্তমানে একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্প চলছে যার মধ্যে টোল সড়ক নির্মাণও রয়েছে। অতীতে এখানে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটায় এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘ডেথ রোড’ নামে পরিচিত।
বুধবারের দুর্ঘটনায় ক্রেনটি একটি চলন্ত ট্রেনের ওপর পড়ে গেলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছুক্ষণের জন্য আগুন ধরে যায়। ওই ট্রেনে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। তিনি ঘটনার পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
থাইল্যান্ডে শিল্প ও নির্মাণস্থলে দুর্ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা হিসেবে পরিচিত।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেএম