অর্থনীতি

শক্তিশালী তামাক কর নীতি না থাকায় রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে কোম্পানিগুলো

বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো ব্যবসা বৃদ্ধি ও সরকারের নীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য নানা ধরনের তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়। সেই সঙ্গে তারা সরকারের শক্তিশালী তামাক কর নীতি না থাকার সুযোগ নিয়ে কৌশলে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ‘তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপ: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির কার্যকর উপায়’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, তামাকজনিত রোগে মৃত্যু ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় রাজস্ব বৃদ্ধি হয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও কর বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট করারোপ জরুরি। কারণ তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ তামাকজাত দ্রব্যের চোরাচালান ও কর ফাঁকি রোধে গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, সরকারেকে বিভ্রান্ত করতে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো অতীতের মতো নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে ও মিথ্যাচার করছে। তারা চোরাচালানের তত্ত্ব প্রচার করছে। অথচ গত ২১ বছরে তামাক থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ এবং প্রতি বছরের রাজস্ব আয় কম হলেও পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে বেশি ছিল। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আটক করা শীর্ষ ১০ পণ্যের তালিকায় সিগারেট নেই। আর্ক ফাউন্ডেশনের এক গবেষণাতে দেখা গেছে, দেশে অবৈধ সিগারেটের বাজার মাত্র ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

তারা আরও বলেন, সরকার ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (এফসিটিসি) স্বাক্ষর করলেও তামাকজাত পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের ইলিসিট ট্রেড প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেনি। এর কারণ তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ ও প্রচারণা। এই প্রোটোকলে স্বাক্ষর করলে যতটুকু অবৈধ বাণিজ্য হয় সেটাও কমে যেত। দেশে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, তামাকজাত দ্রব্যের কোনো আন্তঃদেশীয় অবৈধ বাণিজ্য হয় না। যতটুকু হয় সেটা অভ্যন্তরীণ অবৈধ বাণিজ্য। অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি ও অনুসরণ জরুরি। তাহলে ধোঁয়াহীন ও ধোঁয়াযুক্ত তামাকজাত দ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে আসবে। আর সেজন্য তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের কোনো বিকল্প নেই।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, তামাক কোম্পানি একেক সময় একেক মিথ্যাচার ও মিথকে লক্ষ্যবস্তু করে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, তারা অবৈধ ব্যবসা নিয়েও খুব প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তারা এনবিআরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও এ বিষয়ে বিশ্বাস করিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যতগুলো গবেষণা দেশে হয়েছে কোনোটিতেই এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তারপরও ব্যবসা বৃদ্ধি ও নীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য চোরাচালান তত্ত্ব নিয়ে হাজির হচ্ছে। ফলে সরকারের উচিত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির মিথ্যাচারে কর্ণপাত না করে সুনির্দিষ্ট করারোপ করা।

ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের সাবেক মহাপরিচালক মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, তামাকমুক্ত রেলওয়ে প্রকল্পের কন্সালটেন্ট ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ড. রুমানা হকের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল।

ইএইচটি/একিউএফ/জেআইএম