ভুলবশত ফেরত পাঠানো এক কলেজছাত্রীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে তিন সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন এক মার্কিন বিচারক। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বোস্টনের ফেডারেল আদালতের বিচারক রিচার্ড স্টার্নস প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তারা যেন এই ভুল সংশোধন করে এবং ওই শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে।
১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যানি লুসিয়া লোপেজ বেলোজা গত নভেম্বরে থ্যাঙ্কসগিভিং উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে টেক্সাসে যাওয়ার পথে বোস্টন বিমানবন্দরে আটক হন। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তাকে হন্ডুরাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং স্বীকার করা হয় যে এটি একটি প্রশাসনিক ভুল ছিল।
বিচারক স্টার্নস বলেন, এটি ছিল ভুলের সমষ্টি, যার পরিণতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হতে পারে—পররাষ্ট্র দপ্তর যেন লোপেজ বেলোজাকে একটি শিক্ষার্থী ভিসা দেয়। অন্যথায় সরকারকে তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ব্যবস্থা করতে আদালতের আদেশ জারি করা হতে পারে।
বিচারক প্রশাসনকে ২১ দিনের মধ্যে জানাতে বলেছেন, তারা কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবে। এ সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আদালত অবমাননার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
লোপেজ বেলোজা হন্ডুরাসের নাগরিক। আট বছর বয়সে তিনি তার মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করে আসেন। বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটসের বাবসন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
তার আইনজীবী টড পোমারলু এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি সরকার পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যানিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করবে।
এদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বর্তমানে লোপেজ বেলোজা হন্ডুরাসে তার দাদা-দাদির সঙ্গে অবস্থান করছেন। বিচারক মন্তব্য করেন, আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে তাকে বহিষ্কার করা ছিল একটি দুঃখজনক এবং প্রতিরোধযোগ্য ভুল, যা সংশোধনের দায়িত্ব এখন সরকারের ওপরই বর্তায়।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম