জাতীয়

১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাড়ি ভাড়া করতে হবে, ধীরগতিতে সৌদির উদ্বেগ

বেশিরভাগ বাংলাদেশি লিড এজেন্সি এখনো মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া চুক্তি করেনি। এ অবস্থায় বাড়ি ভাড়ার ধীর গতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি সরকার।

এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নির্ধারিত সময় ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হজ যাত্রীদের বাড়ি ভাড়া শেষ করার জন্য লিড এজেন্সিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম সৌদি টাইমলাইন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। রাজকীয় সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত হজের রোড ম্যাপ অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীদের জন্য মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।

গত ১৫ জানুয়ারি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জুম সভায় জানান যে, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য এজেন্সির মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক। তিনি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, বাড়ি ভাড়ার সময় কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো এজেন্সি বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে যতজনের বাড়ি ভাড়া অবশিষ্ট থাকবে ততজনের তাঁবু এবং সার্ভিস প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্ম হতে প্রাপ্ত রিপোর্টে ৩০টি লিড এজেন্সির তথ্যে দেখা যায় মক্কায় ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ ও মদিনায় ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হয়েছে। ১১টি লিড এজেন্সি মক্কা-মদিনার কোনো স্থানেই এখন পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া শুরু করেনি।

আরও পড়ুনহজ কত প্রকার, কোনটি উত্তম? তামাত্তু হজ পালনের ধারাবাহিক পদ্ধতি 

এ অবস্থায় সৌদি টাইমলাইন অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই হজযাত্রীদের জন্য মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া আবশ্যিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল লিড এজেন্সিকে নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, মক্কা-মদিনা বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি, হজযাত্রীর কোরবানি ইত্যাদি সৌদি পর্বের খরচ নির্বাহের জন্য যদি কোনো এজেন্সির অর্থ পাঠানোর প্রয়োজন হয় তবে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে তা এজেন্সির সৌদি আরবের আইবিএএন (আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসাব নাম্বার) হিসাবে পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। বাড়ি ভাড়াসহ সব কার্যক্রম সৌদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করার কারণে কোনো হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে বহন করতে হবে।

বিমান সংস্থাকে টিকিটের চাহিদা দ্রুত নিশ্চিতের নির্দেশবাড়ি ভাড়া নিশ্চিতে এজেন্সির দেওয়া বিমান টিকিটের চাহিদা দ্রুত নিশ্চিতের জন্য হজযাত্রী বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, অনুমোদিত ফ্লাইট শিডিউল এরই মধ্যে এয়ারলাইনসগুলো হজ পোর্টালে আপলোড করেছে। এজেন্সিগুলো হজযাত্রীদের জন্য মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া নিশ্চিতে এয়ারলাইনস বরাবর বিমান টিকেটের চাহিদা/ রিকোয়েস্ট দাখিল করছে। এ রিকোয়েস্টগুলো সংশ্লিষ্ট ৩টি এয়ারলাইনসের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সৌদি নির্দেশনা অনুযায়ী এক সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রী একই ফ্লাইটে সৌদি আরবে গমন করবে। এছাড়া একই এজেন্সির মোট হজযাত্রীর কমপক্ষে ২০ শতাংশ প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী সময়ে এবং প্রথম ও শেষ পর্যায়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বিমান টিকেট এজেন্সির অনুকূলে ইস্যুর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রি-হজ ফ্লাইটের প্রথম বা শেষ কোনো পর্যায়েই ৩০ শতাংশের কম এবং ৫০ শতাংশের বেশি একটি এজেন্সির অনুকূলে টিকিট ইস্যু করা যাবে না।

এ অবস্থায় হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া (বিশেষত মদিনা) চুক্তি সম্পন্ন করতে এজেন্সিগুলোর দাখিল করা বিমান টিকেটের চাহিদা বা রিকোয়েন্ট এয়ারলাইনসগুলো পারস্পারিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে আগামী ১৯ জানুয়ারির মধ্যে নিশ্চিত করে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

আরএমএম/কেএসআর