কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের মন্তব্যের পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অবস্থান কী সেটা বিবেচনায় না করে ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন প্যানেলের প্রার্থীদের একাংশ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা রিয়া এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদসহ সাতজন প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, আমরা সবাই শাকসুর পক্ষে এবং ২০ তারিখে নির্বাচন চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে শাকসুর প্রচারণার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত ছিলাম, আজকে সকাল থেকে আমরা প্রচারণা চালিয়েছি। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও অবস্থান নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
ছাত্রদলের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে বা শাবিপ্রবির বাইরে থেকে কে কী করছে সেটি দেখতে চাচ্ছি না। আমরা শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা চাচ্ছি ২০ তারিখে নির্বাচন হবে। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তাই করবো, আমরা বাইরে যেতে চাচ্ছি না।
তবে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে আছে প্যানেলটি থেকে নির্বাচন করা এমন কোনো প্রার্থীকে সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে প্যানেলটি থেকে জিএস পদে নির্বাচন করা মারুফ বিল্লাহকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্যানেলটি থেকে এজিএস পদে নির্বাচন করা জহিরুল ইসলাম বলছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের চাওয়ার সমন্বয় করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জাগো নিউজকে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে আমাদের নির্বাচন থেকে বসে যাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমরা সারাদিন প্রচার প্রচারণা করেছি, আমাদের প্রার্থীরা মাঠেই আছেন। বাকিটা কি হয় দেখা যাক।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে যদি কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেটা অবশ্যই প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিব। একক কোনো সিদ্ধান্ত হবে না।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চেয়ে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা সাড়া দেননি।
মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দাবি ছিল, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাকসু নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলে শাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের একাংশ সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান জানান।
এসএইচ জাহিদ/আরএইচ/জেআইএম