চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার কারণে এক শিক্ষার্থীর চিরতরে পঙ্গু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মারিয়া খাতুন। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিগড়ী ইসলামপুর এলাকার মোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে কুয়াশার মধ্যে একটি অটোরিকশা ও পাখিভ্যানের সংঘর্ষে মারিয়া গুরুতর আহত হয়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল।
শিশুটির দাদা ইউসুফ আলী অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা আঘাতের প্রকৃত অবস্থা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে শুধু পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এসময় প্রয়োজনীয় ড্রেসিং ও প্রাথমিক চিকিৎসা সঠিকভাবে না করায় শিশুটির ডান পায়ের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। পরবর্তীতে ৯ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলে মারিয়াকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে অনেক দেরিতে আনা হয়েছে। সংক্রমণ ও রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিশুটির জীবন রক্ষায় গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাঁটুর নিচ থেকে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়।
এ ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মারিয়ার স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
এসময় তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এতে কোনো সমাধান না হলে আবার একই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন মারিয়ার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক চিকিৎসক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এসময় বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের চেয়ে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখায় বেশি মনোযোগী। সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের প্রতি অবহেলাই একটি শিশুর পঙ্গুত্বের কারণ হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক আব্দুর রহমান বলেন, মারিয়ার ক্ষেত্রে ‘ওপেন ফ্র্যাকচার টিবিয়া-ফিবুলা’ শনাক্ত করা হয়েছিল। তৃতীয় দিনে আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অপারেশন করা হয়নি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মারিয়া ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হুসাইন মালিক/এফএ/এমএস