দেশজুড়ে

মহাসচিব বনাম ভাইস চেয়ারম্যানে বিভক্ত জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন জাতীয় পার্টির ভাইস-চেয়ারম্যান এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু। একই দলের দুই শীর্ষ নেতার ভিন্ন অবস্থান সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গাইবান্ধা-৫ গঠিত। এ আসনে জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে একই দলের ভাইস-চেয়ারম্যান হয়েও এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যেও দ্বিধা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে, আবার কেউ কেউ নীরবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ দলীয় প্রতীককে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। আবার অনেকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় যোগাযোগ ও অতীত ভূমিকার কথা বিবেচনা করে রঞ্জুর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। যদিও আসনটিতে জাতীয় পার্টির তেমন একটা প্রভাব নেই। একদিকে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে পারছেন না প্রার্থীরা। অন্যদিকে দুই শীর্ষ নেতার মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারণ ভোটারদের মনে জন্ম দিয়েছে নানা সংশয়।

সাধারণ ভোটার হুমায়ূন কবির বলেন, এ আসনটি এক সময় জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। ক্ষণে ক্ষণে জাতীয় পার্টি বিভিন্ন জোটের সঙ্গে যাওয়ায়, তাদের অবস্থান বর্তমানে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। আগের অবস্থানে জাতীয় পার্টির ফিরে যাওয়া আর সম্ভব না।

নতুন ভোটার জারিন তাসমিন বলেন, নতুন ভোটারদের জাতীয় পার্টিকে ভোট দেওয়ার সম্ভবনা কম। তারা ক্ষমতার লোভে বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে স্বৈরাচার হতে সাহায্য করেছিল। আমরা সেটা জানি।

কয়েকজন জাতীয় পার্টির সমর্থক বলেন, একজন দলের মহাসচিব, আরেকজন ভাইস-চেয়ারম্যান। দুজনই গুরুত্বপূর্ণ নেতা। কিন্তু একজন স্বতন্ত্র হওয়ায় সাধারণ ভোটাররা বুঝতে পারছেন না, কাকে ভোট দিলে তারা উপকৃত হবে। এতে করে ভোটের শেষ মুহূর্তে কী হবে বলা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো শীর্ষ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সেটি দলের সাংগঠনিক ঐক্যে প্রভাব ফেলে। এতে একদিকে দলীয় ভোটব্যাংক ভাগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা লাভবান হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দুইজনের প্রার্থিতা থাকলে নির্বাচনি সমীকরণকে জটিল করে তুলবে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের কৌতূহল বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্বের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে, তা এই মুহূর্তে অনুমান করা কঠিন। সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বিপরীতে একই দলের ভাইস-চেয়ারম্যানের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের সিদ্ধান্ত কোনদিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ফুলছড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সবুজ দাবি করে বলেন, দলের মধ্যে বিভাজন নিরসনে মহাসচিব এখানে প্রার্থী হয়েছেন। দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে কেউ সুবিধা করতে পারবেন না। কারণ ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার মানুষ লাঙ্গলের ভক্ত। তারা প্রার্থী নয়, প্রতীক দেখেই ভোট দেন।

জাতীয় পাটির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের পাশে ছিলাম। দলীয় পরিচয়ের বাইরেও জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন আমার মূল শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, ভোটাররা ব্যক্তি ও কাজের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

আনোয়ার আল শামীম/এফএ/এমএস