আন্তর্জাতিক

‘রুশ হুমকি’ মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে মরিয়া ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ডে তথাকথিত ‘রুশ হুমকি’ দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে আবারও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, “ন্যাটো ২০ বছর ধরে ডেনমার্ককে বলে আসছে—‘গ্রিনল্যান্ড থেকে রুশ হুমকি দূর করতে হবে।’ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডেনমার্ক কিছুই করতে পারেনি। এখন সময় এসেছে, এবং এটি হবেই!”

এ বিষয়ে রোববার (১৮ জানুয়ারি) ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। আলোচনায় গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উঠে আসে। রুটে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই এই বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহে ডাভোসে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ডেনমার্কের অধিভুক্ত হলেও স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এর ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল খনিজ সম্পদ এবং রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগকে এর কারণ হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এই দেশগুলো হলো ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড।

এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এটি পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটোর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।’ তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে গেলে জোটটি ‘আরও শক্তিশালী ও কার্যকর’হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে প্রস্তাবিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলা করতে এবং দ্বীপটিতে ডেনমার্কের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, এ অঞ্চলে রুশ ও চীনা বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এবং এ দ্বীপ রক্ষা করার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।

এছাড়া ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভূভাগের অখণ্ডতা রক্ষায় একজোট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের ক্ষমতাধর ছয়টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কে এম