বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করেছে সরকার। সেখানে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, , ১৫ জনকে নিয়ে গঠিত বোর্ডটিতে ডাক পেয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান। তবে তিনি বোর্ডে থাকছেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগ করলেন তিনি।
খিজির হায়াত খান আজ (১৯ জানুয়ারি) সোমবার সকালে বোর্ড থেকে পদত্যাগ করছেন বলে জানান। বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সিনেমাপাড়ায়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে জাগো নিউজকে ‘জাগো’খ্যাত এই নির্মাতা তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে থাকছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমি বোর্ডে থাকেতে আগ্রহী কি না সেই বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো কথা বলেনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। আরও বেশ কয়েকটি কারণ আছে সেইগুলো আমি পদত্যাগের পর বলবো।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে খিজির হায়াত খান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগের আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি খিজির হায়াত খান একজন স্বতন্ত্র ও স্বাধীনচেতা চলচ্চিত্র কর্মী। ৫ আগস্টের গণ অভ্যুধান পরবর্তী স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক আমাকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে বিষয়টিকে অত্যন্ত সম্মান জানিয়ে আমি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।
পরবর্তীতে নীতি, আদর্শ ও কাঠামোগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আমি স্বেচ্ছায় সেই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করি। সিদ্ধান্তটি ছিল ব্যক্তিসত সুবিধা বা অসন্তোষের নয়। বরং চলচ্চিত্র শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আমার সুাপষ্ট অবস্থানের ফলাফল।আরও পড়ুনঘোষণার পাঁচ বছর পর রোজার ঈদে কি মুক্তি পাচ্ছে ‘মাসুদ রানা’?নওশাবা বহাল, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে সরকার
এই প্রেক্ষাপটে বিময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি যে ১৪ জানুয়ারি ২০২২৮ অরিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন (নং ১৫,০০,০০০০,০২৭,২২,০০১১৮০-১৩) অনুযায়ী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের চলচ্চিত্রে সার্টিফিকেশন বোর্ডে আমার নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে বিষয়ে আমার সাথে কোনো আলোচনা বা সম্মতি গ্রহণ করা হয়নি।
আমি ‘স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, যে কাঠামো ও বাস্তবতায় আমি পূর্বে পদত্যাগ করেছি সেই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকা অবস্থায় পুনরায় একই দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণ করা ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য যেমন অসঙ্গত, তেমনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতিও অসম্মানজনক হবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।আমি কেবল তখনই এই দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারি, যখন নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করব যে চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে স্বাধীনভাবে, বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিবেশ সেখানে বিদ্যমান। কারণ বোর্ডে কারা আছেন তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডটি কীভাবে এবং কার ধার্থে কাজ করছে।
আমার অগোচরে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির ফলে সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে যা একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে আমার জন্য বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়, না আমার জনা, না বোর্ডের জন্য, না বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য।’
তথ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই পরিচালক আরও বলেন, ‘আমার মতো ক্ষুদ্র চলচ্চিত্র কর্মী কে এহেন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জন্য আবারও যোগ্য মনে করবার জন্য ধন্যবাদ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে একটি শক্তিশালা ধারায়, যুগোপযোগী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান গঠনের উপর। কোনো ব্যক্তি বিশেষের উপস্থিতির উপর নয়। সেই বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি আমাকে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (২०२७২০২৭) থেকে অব্যাহতি প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমি রাষ্ট্রের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে একজন স্বাধীন চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আমার যুদ্ধ চলমান থাকবে আজীবন। প্রয়োজনে এই বিষয়ে সরাসরি আলোচনার জন্য আমার উপস্থিতি সর্বদা প্রস্তুত।‘
গেল ১৪ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসলিমা নূর হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩-এর ৩ ধারার উপধারা (১) অনুসারে সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করা হয়।
নবগঠিত সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব এবং সদস্যসচিব হচ্ছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান।
১৫ সদস্যের সার্টিফিকেশন বোর্ডে আরও রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রতিনিধি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেন্সর বোর্ডের ইতি ঘটে। ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই দফায়ও সার্টিফিকেশন বোর্ডে ছিলেন কাজী নওশাবা আহমেদ, ইকবাল এহসানুল কবির, খিজির হায়াত খান ও তাসমিয়া আফরিন। তবে বোর্ড গঠনের মাস দুয়েক পর পদত্যাগ করেন খিজির হায়াত খান।
এমআই/এলআইএ