দেশজুড়ে

গণভোটের গোলাপি ব্যালটই নির্ধারণ করবে জাতির ২০-৫০ বছরের ভবিষ্যৎ

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে প্রথম ব্যালটে দেওয়া ভোট পাঁচ বছরের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে, আর গোলাপি ব্যালটে দেওয়া ভোট আগামী ২০ থেকে ৫০ বছরের জন্য জাতির ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে। এই গণভোটের মাধ্যমে আমরা কোন পথে যাব—সেটিই নির্ধারিত হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে (বিজয় মেলার মাঠে) গণভোটের প্রচারণা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা এমন বিরোধী দল চাই না, যাদের জেলে থাকতে হয় বা ১০১টি মামলা নিয়ে ঘরছাড়া থাকতে হয়। পরাজিত প্রার্থীরাও নিজ নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন—এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা চাই, যেমনটি বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে রয়েছে।

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বা একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, কার্যকর বিরোধী দল এবং উচ্চকক্ষের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের প্রত্যাশা করছি।

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, এলপিজি ব্যবসার ৯৮ শতাংশই বর্তমানে বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে, সরকারের হাতে রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত জাহাজে এলপিজি আনা সম্ভব না হওয়ায় জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত ধীরে ধীরে কমে আসছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার এলএনজি আমদানি করছে। তবে বিদ্যমান দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) দিয়ে সর্বোচ্চ ১১৮টি কার্গো আনার সক্ষমতা থাকলেও এ পর্যন্ত ১০৯টি কার্গো আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি এলএনজি আমদানির জন্য নতুন একটি এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্যে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করছি এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরছি। আমরা কাউকে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে বাধ্য করছি না। অন্তর্বর্তী সরকারের ভিত্তি তিনটি—বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার। বর্তমান পরিবর্তন না এলে আগামী নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতো এবং সেটিও কেমন হতো তা জনগণ জানে।

তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু। জনগণ নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। সংবিধান অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার বিষয়ে ফাওজুল করিম জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দল বা প্রার্থী নেই। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণকে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

এর আগে, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গণভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মো. সজল আলী/কেএইচকে/জেআইএম