জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনটির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে সমাবেশটি হয়। পরে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত। বক্তব্য দেন সংগঠনের নগর কমিটির সভাপতি নওশিন মুসতারী সাথী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক।
সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নওশিন মুসতারী সাথী বলেন, শিক্ষাকে ক্রমাগত পণ্যায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের দাবি জানান। সেই সঙ্গে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারির জোর দাবি রাখেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া আশাব্যঞ্জক হলেও সম্প্রতি কিছু প্রতিনিধির অগণতান্ত্রিক আচরণ, সহিংসতা ও শিক্ষক নিপীড়নের ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলের মতো এখনো শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ চলছে এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষবশত মনীষীদের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার নাম অযৌক্তিকভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে।রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়িয়ে শ্রমিক ও শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশি হামলা ও গণগ্রেফতার চালাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে হামলা ও দেশবিরোধী চুক্তিগুলো বাতিল না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার ওপর, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দিয়ে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করা হচ্ছে। দেশে মব সহিংসতা ও নারী নিপীড়ন বাড়লেও বিচার প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে।
তিনি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ এবং ইরানে চলমান সংকটে সাম্রাজ্যবাদী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।সমাবেশে নেতারা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৪২ বছরের লড়াইয়ের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ছাত্রসমাজের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি বিজ্ঞানভিত্তিক-সেক্যুলার শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন আরও সুসংগঠিত ও বেগবান হবে।
এসময় ৯ দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো- জুলাই গণহত্যা এবং ওসমান হাদি, দীপু দাস ও আয়েশাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা। শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ করা। অবিলম্বে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকেবি) অধ্যাদেশ জারি করা।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরম পূরণ এবং ইনকোর্স পরীক্ষার বর্ধিত ফি বাতিল করা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা। সব স্কুল ও কলেজে লাইব্রেরি, খেলাধুলার মাঠ ও সৃজনশীল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। শিক্ষার বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচন এবং সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ করা। ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
এফএআর/একিউএফ