দেশজুড়ে

হারিয়ে যাচ্ছে যশোরের যশ খজুরের রস

পৌষ ও মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। এ সময় গাছিরা ব্যস্ত থাকেন রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ ও গাছির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে যশোরের যশ-খেজুরের রসের ঐতিহ্য।

শীত এলেই যশরের বিভিন্ন এলাকা খেজুরের রস উৎপাদন, গুড় ও পাটালিতে ভরে উঠত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব খেজুরের গুড় ও পাটালি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হতো। কিন্তু ইটভাটা স্থাপন ও জনবসতি বাড়ার কারণে এখন গাছ ও গাছির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে হাতে গোনা খেজুর গাছ কেটে রস ও গুড় সংগ্রহ করে কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন গাছিরা। তাদের আশা গাছ বাড়লে আয় বাড়বে, আর দাম কমবে।

শার্শা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোরের শার্শা উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৭২ হাজার ২২৬টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার গাছ থেকে রস ও গুড় সংগ্রহ করছেন চাষি ও গাছিরা। পতিত জমিসহ বিভিন্ন জমিতে খেজুর গাছ রোপণ এবং বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শার্শার গাছি আমিরুল ইসলাম ও শামসুর রহমান জানান, এখন খেজুর গাছের সংখ্যা কম থাকায় উৎপাদনও কমে গেছে। কৃষকদের থেকে বর্গা নিয়ে খেজুর গাছ কাটতে হচ্ছে তাদের। উৎপাদিত গুড় ও রসের অর্ধেক ভাগ দিতে হয় জমির মালিককে। এরপরও তিন মাসের মৌসুমে রস, গুড় ও পাটালি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চলে।

তারা জানান, খেজুর গাছ বাড়লে রস ও গুড়ের চাহিদা পূরণ হবে এবং দামও কমবে। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহ চলছে। গাছিরা গাছ কাটছেন, বাড়ছে গুড় ও পাটালির চাহিদা। তবে ভোক্তাদের এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

খেজুর গাছ বৃদ্ধিতে কৃষি দফতরের সহযোগিতাসহ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা আরমান হোসেন ও মসির রহমান।

তারা জানান, আত্মীয় স্বজনরা বাড়িতে এলে তাদের নানা রকম রসের পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করতে হয়। তারা খেজুরের রস ও গুড় খুব পছন্দ করেন, তাই বেশি দাম দিয়ে এসব পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৭২ হাজার ২২৬ টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার গাছ থেকে রস ও গুড় সংগ্রহ করছেন ৫৭৫ জন চাষি ও গাছিরা। খেজুর চাষ ও সংরক্ষণে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পতিত জমিসহ বিভিন্ন জমিতে খেজুর গাছ রোপণ এবং বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মো. জামাল হোসেন/এনএইচআর/এমএস