প্রশ্ন: হজ ফরজ হওয়ার পরও কেউ যদি হজ করতে না পারে এবং মৃত্যুর আগে বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে, তাহলে তার পক্ষ থেকে কোনো সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে বদলি হজ করানো যাবে?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির পরিত্যাক্ত সম্পদের তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে যদি মৃত ব্যক্তি যে দেশে বসবাস করতো, ওই দেশ থেকে কাউকে পাঠিয়ে হজ করানো যায়, তাহলে ওই দেশ থেকেই বদলি হজের জন্য কাউকে পাঠাতে হবে। সৌদি আরব বা অন্য দেশে বসবাসকারী কাউকে বদলি হজের জন্য পাঠালে বদলি হজ আদায় হবে না।
আর যদি মৃতের পরিত্যাক্ত সম্পদের তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে মৃত ব্যক্তির দেশ ও শহর থেকে কাউকে পাঠিয়ে বদলি হজ করানো সম্ভব না হয়, তাহলে সৌদি আরব বা অন্য যে কোনো দেশ থেকে কাউকে পাঠিয়ে বদলি হজ করানো যাবে।
হজের মৌসুমে কাবার পৌঁছার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রয়েছে, এমন প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। কোরআনে হজ ফরজ করে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা বলেন,
নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হিদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহিম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। (সুরা আলে ইমরান: ৯৬, ৯৭)
কারো ওপর যদি হজ ফরজ, তাহলে তার কর্তব্য দ্রুত হজ আদায় করে নেওয়া। অযথা দেরি করা ঠিক নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা: ২৮৮৩)
কারো ওপর যদি হজ ফরজ হয় এবং হজ পালন করার শারীরিক সক্ষমতাও থাকে, তার জন্য নিজে হজ করা জরুরি। বদলি হজ করালে অর্থাৎ অন্যকে দিয়ে হজ করালে তার ফরজ হজ আদায় হবে না। যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং হজ আদায়ের সক্ষমতাও ছিল, কিন্তু শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করেনি, তারপর হজ্ব আদায়ের সক্ষমতা হারিয়ে মাজুর হয়ে পড়েছে, এমন ব্যক্তির ওপর নিজের পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো অথবা মৃত্যুর সময় বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে যাওয়া ফরজ।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাসআম গোত্রের এক নারী নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর বান্দার উপর ফরজকৃ্ত হজ আমার বয়োবৃদ্ধ পিতার ওপর ফরজ হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের ওপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ (আপনি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারেন)। ঘটনাটি বিদায় হজের সময় ঘটেছিল। (সহিহ বুখারি: ১৪২৫)
ওএফএফ/এমএস