ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক স্টারলিংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে জেফ বেজোসের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ব্লু অরিজিন ঘোষণা দিয়েছে, তারা একটি নতুন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়তে ৫ হাজার ৪০৮টি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ প্রান্তিকে এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক বাস্তবায়ন শুরু হবে। ‘টেরাওয়েভ’ নামে এই নেটওয়ার্ক পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে সর্বোচ্চ ৬ টেরাবিট পার সেকেন্ড (টিবিপিএস) গতির ডেটা সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্লু অরিজিন জানায়, অপটিক্যাল কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এই উচ্চগতির সংযোগ সম্ভব হবে। গ্রাহক পর্যায়ের ইন্টারনেটের তুলনায় এ গতি অনেক বেশি, যা বড় আকারের ডেটা প্রসেসিং এবং সরকারি প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নেটওয়ার্কটি সর্বোচ্চ এক লাখ গ্রাহককে সেবা দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।
মহাকাশে ডেটা সেন্টার প্রতিযোগিতাটেরাওয়েভ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এমন এক সময়ে ব্লু অরিজিন এই খাতে প্রবেশ করলো, যখন মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক বিস্তারের ফলে বিশাল পরিসরের ডেটা প্রসেসিংয়ের চাহিদা বেড়েছে, যা পৃথিবীতে বিপুল জ্বালানি ও অবকাঠামো নির্ভর।
আরও পড়ুন>>ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে?ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে খরচ কেমন?ইরানে ‘অচল’ মাস্কের স্টারলিংকও, তেহরানের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
জেফ বেজোস আগে থেকেই আরেকটি স্যাটেলাইট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। অ্যামাজনের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি লিও নামে একটি নেটওয়ার্ক তত্ত্বাবধান করছেন, যা আগে প্রজেক্ট কুইপার নামে পরিচিত ছিল। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ হাজার ২০০টি স্যাটেলাইট দিয়ে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্টারলিংকের আধিপত্য, নতুন চ্যালেঞ্জবর্তমানে এই খাতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে স্পেসএক্সের স্টারলিংক। প্রায় ১০ হাজার স্যাটেলাইট নিয়ে গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্তত ১৪০টি দেশে ৬০ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। স্টারলিংক ব্যক্তি গ্রাহক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং স্টারশিল্ড প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সেবা দিচ্ছে।
ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, স্টারলিংক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, জেফ বেজোস মনে করেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মহাকাশে এমন ডেটা সেন্টার সাধারণ বিষয় হয়ে উঠবে।
স্টারলিংকের সাফল্যের পর চীনের একাধিক প্রতিষ্ঠান দ্রুতগতিতে অনুরূপ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। কম খরচে হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য তারা পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরির কাজ করছে।
ব্যক্তিগত ভোক্তাদের জন্য নয় টেরাওয়েভব্লু অরিজিনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য নিউ গ্লেন রকেট টেরাওয়েভ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও রকেটটি এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার উৎক্ষেপণ হয়েছে এবং দ্রুত ফ্লাইট রেট অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি এখনো ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
ব্লু অরিজিনের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, টেরাওয়েভ নেটওয়ার্কটি ব্যক্তিগত ভোক্তাদের জন্য উন্মুক্ত নয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ লিম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘টেরাওয়েভকে বিশেষভাবে এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।’
ব্লু অরিজিনের দাবি, তাদের এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড টার্মিনাল দ্রুত বিশ্বব্যাপী মোতায়েন করা যাবে এবং বিদ্যমান উচ্চক্ষমতার অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে। তবে কোন ধরনের অবকাঠামোর সঙ্গে এটি কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সূত্র: রয়টার্সকেএএ/