জাতীয়

জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ: ডিএনসিসির বাড়িভাড়া নির্দেশিকা সংশোধন

রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত নির্দেশিকা সংশোধন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জাগো নিউজকে এই তথ্য জানান।

সংশোধিত নির্দেশিকার ১১ নম্বরে বলা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার প্রচলিত আইন ও বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার দর-কষাকষির মাধ্যমে হবে।

এর আগে, গত ২০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়ার চাপ কমাতে ঢাকঢোল পিটিয়ে বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করে ডিএনসিসি। ওই নির্দেশিকায় ১৬টি বিষয়ের মধ্যে ১১ নম্বরে বলা হয়েছিল- মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না।

অর্থাৎ, একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য ধরে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়াতে পারবেন মালিকরা। বিষয়টি আরও সহজ করে বললে, একটি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য এক কোটি টাকা হলে, বছরে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়া ১৫ লাখ টাকা হবে। এর মধ্যে প্রতি মাসের ভাড়া হবে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। যা একপ্রকার অবাস্তব।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ‘বাড়ি ভাড়া: উত্তর সিটির নির্দেশিকায় বাড়ি মালিকের লাভ, ক্ষতি ভাড়াটিয়াদের!’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা সংশোধন করেছে ডিএনসিসি।

আরও পড়ুন

উত্তর সিটির নির্দেশিকায় বাড়ি মালিকের লাভ, ক্ষতি ভাড়াটিয়াদের!

সংশোধনী নির্দেশিকায়: ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো-

১. বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।২. বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসেস (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) এর নিরবিচ্ছিন্ন কানেকশন, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য কালেকশনসহ অনন্যা সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় বা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে অবগত করবেন এবং বাড়িওয়ালা অতিসত্ত্বর সেই সমস্যা সমাধান করবেন।৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার প্রাক অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।৪. সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, ইত্যাদি নানা ধরণের মনুষ্যসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।৫. এ অবস্থায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে দেবেন।৬. ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া দেবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রশিদ দিতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন।৭. বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যে কোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলানিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামতনেবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি/ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নিতে হবে।৮. মানসম্মত ভাড়া কার্যকরী হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই । দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়ি ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত/ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্বাপেক্ষে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।৯. নির্দিষ্ট সময় ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া দেওয়ার জন্য তাগাদা দেবেন। তাতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সব বকেয়া দিয়ে ২ মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন এবং ভাড়াটিয়ার সঙ্গে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।১০. আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে, বাড়ি ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয়পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।১১. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার প্রচলিত আইন ও বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার দর-কষাকষির মাধ্যমে হবে।১২. বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সে সব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।১৩. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।১৪. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিশে থাকবেন।১৫. যে কোনো সমস্যা ওয়ার্ড/জোন ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।১৬. ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনের জোন ভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করা।১৭. প্রদত্ত নির্দেশিকায় যা-ই বলা হোক না কেন, কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ অনুসরণীয় হবে।

এমএমএ/এএমএ