দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও লুটপাটে ধাক্কা খাওয়া দেশের ব্যাংক খাতে আবারও ফিরতে শুরু করেছে গ্রাহকের আস্থা। বিশেষ করে ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় আমানতের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি সেই আস্থারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, এক বছরে ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় আমানত বেড়েছে ৪১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থপাচারের কারণে দেশের ব্যাংক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলামি ধারার কয়েকটি ব্যাংক চরম তারল্য সংকটে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করতে বাধ্য হয়। এতে ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খায়।
তবে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে ধীরে ধীরে ফিরতে থাকে সেই আস্থা। এর ফলে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ আবারও ব্যাংকে জমা পড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামিক শাখা ও উইন্ডোগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। পরের মাস নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে আমানত বেড়েছে ৯ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরের তুলনায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় আমানত বেড়েছে ৪১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ৯ দশমিক ৬০।
ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংক খাতে কিছু সমস্যার কারণে মানুষের আস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এখন সেটা কেটে যাচ্ছে। শুধু ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় নয়, পুরো খাতেই মানুষের আস্থা ফিরছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।
তাদের মতে, শুধু গত এক বছরেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে আমানত বেড়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলো একীভূত হওয়ায় সুশাসন ফিরছে এবং ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থও আবার ব্যাংকে আসছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত ছিল ৪ লাখ ১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, যা নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে আমানত বেড়েছে ২ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।
এদিকে, ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী আয়ও বেড়েছে। অক্টোবর মাসে যেখানে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬৯ কোটি ডলার, সেখানে নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ কোটি ডলারে। তবে একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৯ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ইসলামি ধারার কয়েকটি ব্যাংকে সমস্যার কারণে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে ভয় পেত। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ হওয়ার পর সেই ভয় কেটে গেছে। মানুষের আস্থা ফিরেছে, তাই আমানতও বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।
ইএআর/এসএনআর/বিএ