চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার হাতেও আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেবো। সমাজে তোমাকে আর মুখ ঢেকে চলতে হবে না। কেউ তোমার মা-বাবাকে চাঁদাবাজের মা-বাবা বলবে না, স্ত্রীকে কেউ চাঁদাবাজের স্ত্রী বলবে না। সম্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এস এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, দুটি কারণে আমাদের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। প্রথমত মধ্যস্বত্বভোগী, দ্বিতীয়ত ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। আমরা সব চাঁদাবাজ নির্মূল করবো।
উত্তরবঙ্গের নদীগুলো এখন মরুভূমি, কঙ্কাল হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, নদীর জীবন ফিরে এলে নর্থ বেঙ্গলের জীবন ফিরে আসবে। আমরা গোটা নর্থ বেঙ্গলকে একটা কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই। সরকার গঠন করতে পারলে আমরা সবার আগে দৃষ্টি দেবো এই নদীগুলোর ওপর। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন দেওয়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের ছায়া বাংলাদেশে আমরা দেখতে চাই না। অবশ্যই বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই, আমরা প্রতিবেশীদেরও আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা কারও ওপর খবরদারি করতে চাই না। আর কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক তাও দেখতে চাই না। আমাদের কথা একদম পরিষ্কার। ৫৪ বছর যেই শাসন, যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যে বন্দোবস্ত দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে। এই শাসন আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা চাই তার আমূল পরিবর্তন।
গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ। একসঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট আর সাধারণ নির্বাচন। আমি বলবো, গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচন সফল হবে। তাই গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।
উত্তরবঙ্গ কৃষির উর্বরক্ষেত্র উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনায় গাইবান্ধা অগ্রাধিকার পাবে।
উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য এখানে ইপিজেড হওয়ার প্রয়োজন আছে। কৃষিপণ্য প্রসেস ও রপ্তানিযোগ্য করে তুলতে এখানে ইপিজেড করা হবে।
সমাবেশে বক্তব্য শেষে গাইবান্ধার ৫টি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।
আরএএস/এসএনআর