নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ বলে সন্দেহ করা একটি তেলবাহী জাহাজ ফ্রান্স ভূমধ্যসাগরে আটক করা হয়েছে। জাহাজটি রোববার (২৫ জানুয়ারি) দক্ষিণ ফ্রান্সের একটি বন্দরের কাছে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে ও সেটি ঘিরে কড়া নজরদারি জারি রেখেছে ফরাসি নৌবাহিনী।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ বলে সন্দেহ করা এমন মোট ৫৯৮টি জাহাজ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৪৯ মিটার দীর্ঘ ‘দ্য গ্রিঞ্চ’ নামে জাহাজটি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটভুক্ত জাহাজ হিসেবে ওই নামেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি তালিকায় একই জাহাজটি ‘কার্ল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেল ট্যাংকারটি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে স্পেন ও উত্তর আফ্রিকার মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করা হয়। ফ্রান্সের আঞ্চলিক সামুদ্রিক প্রিফেকচার (প্রশাসনিক এলাকা বা অঞ্চল) শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, ফরাসি নৌবাহিনী জাহাজটিকে দক্ষিণ ফ্রান্সের গালফ অব ফস এলাকায় নিয়ে আসে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো দেশের পতাকা না ওড়ানোর অভিযোগে প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে জাহাজটি মার্সেইয়ের সরকারি কৌঁসুলির অধীনে রাখা হবে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও ক্রুদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ট্যাংকারটি মার্তিগ শহরের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নোঙর করা অবস্থায় ছিল। কাছেই অবস্থান করছিল ফরাসি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ও আধাসামরিক পুলিশ বাহিনী জেনদারমেরির দুটি টহল নৌযান।
সামুদ্রিক প্রিফেকচার জানায়, নোঙর করা স্থানটির চারপাশে নৌ ও আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফ্রান্স ‘বরাকাই’ নামে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি জাহাজ আটক করে। জাহাজটির ক্রুরা সেটিকে বেনিনের পতাকাবাহী বলে দাবি করেছিলেন। আর ওই পদক্ষেপকে ‘ডাকাতি’ বলে নিন্দা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
‘বরাকাই’ জাহাজটির চীনা ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্সে বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ