নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গণসংযোগের নামে প্রায় দুই হাজার ভোটারের জন্য খাবারের আয়োজন করার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলুর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরে এলে ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবরে খাবার রেখে পালিয়ে যান বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেলে বলিহার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু। তার আগমনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেন। গণসংযোগে অংশ নেওয়া ভোটারের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রান্না ও প্রস্তুতির বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেন। এতে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং তা নির্বাচনি আচরণবিধির দায়িত্বে নিয়োজিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের আগমনের খবর পেয়ে রান্না করা খাবার ও আয়োজন সামগ্রী ফেলে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এদিন দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার করা এক ভিডিওতে বলিহার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রসুল সরদার বলেন, আজকে বলিহার ইউনিয়নে প্রচারণার জন্য এমপি পদপ্রার্থী জননেতা জাহিদুল ইসলাম ধলু আসবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে উদ্দেশ্য করে আমরা বলিহার ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিলে প্রায় দুই হাজার লোকের খাবারের আয়োজন করেছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাবো। ১৭ বছর আগে যেভাবে এই ইউনিয়নে বিএনপি জয়লাভ করেছিল, এবারও আমরা ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে ধলু ভাইকে জয়যুক্ত করতে পারবো।
নির্বাচনি আচরণবিধির দায়িত্বে নিয়োজিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নওগাঁ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন, ভোটারদের প্রভাবিত করতে খাবার বা কোনো ধরনের আপ্যায়নের আয়োজন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বলিহার ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগকে কেন্দ্র করে খাবার আয়োজনের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। প্রাথমিক সত্যতা মিললেও সেখানে কাউকে না পাওয়ায় জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযোগকারীকে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হবে।
আরমান হোসেন রুমন/এনএইচআর/এমএস