ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জামায়াত নেতার এ বক্তব্যকে ‘মানহানিকর ও মিথ্যাচারমূলক’ উল্লেখ করে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা। তিনি বলেন, ডাকসুকে নিয়ে একটি দলের নেতা কীভাবে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করতে পারেন—তা বোধগম্য নয়। আমরা ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আছি। নারীরা এখন নিজেদের অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিয়ে সচেতন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বহু কষ্ট করে নারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। সেই নারীদের নিয়েই এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রার্থী বা কোনো দলের নেতাকর্মী—যে-ই হোক না কেন; নারীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করলে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো। আমরা নারীবান্ধব একটি বাংলাদেশ চাই। সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের জিএস সাদমান আব্দুল্লাহ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর অভ্যুত্থানসহ দেশের নানান ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িয়ে আছে। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, এখনো ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেখা যায়নি। অথচ অন্যান্য ইস্যুতে ডাকসুর ব্যানারে প্রতিবাদ করা হয়। এ বিষয়ে তিনি প্রত্যেক হল সংসদ থেকে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, ডাকসু সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ভবন সম্পর্কে বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের একটি বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ বক্তব্যকে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।
গতকাল শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনি জনসভায় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করেন।
এফএআর/এমকেআর