অর্থনীতি

বড় মূলধনের কোম্পানিতে ভর করে বাড়লো সূচক, কমেছে লেনদেন 

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও সবকয়টি মূল্যসূচক বেড়েছে। মূলত বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।  

ডিএসইতে দাম কমার তালিকা বড় হলেও অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এই বাজারটিতেও মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।  

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৪৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়।  

তবে এরপর বেশি কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যায়। ফলে বড় হয় দাম কমার তালিকা। তবে বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হলেও সবকয়টি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।  

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৩৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯১টির। এছাড়া ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বড় মূলধন ও বাছাই করা ৩০টি ভালো কোম্পানির মধ্যে ২২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ৮টির দাম কমেছে।

এছাড়া ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮২টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১২ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ৫৮টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

আরও পড়ুনআয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ছে পানিতে সহস্রাধিক ‘ভাসমান গুদাম’, বন্দরে জাহাজজট 

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫১টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯৯৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে।  

সবকয়টি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৩৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৯৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৬০ কোটি ৩ লাখ টাকা।  

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।  

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পদ্মা অয়েল, ইসলামী ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, প্রগতী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।  

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৮টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৩ কোটি ২ লাখ টাকা। 

এমএএস/কেএসআর