টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার ইঙ্গিত দিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন বলে অভিযোগ তুলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে আইসিসির সঙ্গে তৈরি হওয়া বিতর্কে প্রকাশ্যে বিসিবির পাশে দাঁড়িয়েছে পিসিবি। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভি। বৈঠকের পর তিনি জানান, আপাতত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ‘ঝুলন্ত’ আছে। বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী শুক্রবার বা সোমবার। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এ অবস্থানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গন থেকে আপত্তির সুর জোরালো হচ্ছে।
পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, পিসিবির অবশ্যই বিশ্বকাপে দল পাঠানো উচিত। সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ এবং সাবেক সচিব আরিফ আলি আব্বাসিও বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না।
আরিফ আলি আব্বাসি বলেন, ‘বাংলাদেশকে সমর্থন করা পাকিস্তানের পক্ষে বোঝা যায়; কিন্তু দল না পাঠিয়ে পিসিবি কী অর্জন করবে? এতে শুধু আইসিসি ও অন্য সদস্য বোর্ডগুলোর সঙ্গে সম্পর্কই নষ্ট হবে।’
জগমোহন ডালমিয়া ও আইএস বিন্দ্রার সময় পিসিবিতে কাজ করা আব্বাসি আরও বলেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও সম্পর্কের বিষয়টি ভাবতে হবে। ‘আমাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা, ভারতের বিপক্ষের ম্যাচসহ। পাকিস্তান না গেলে শ্রীলঙ্কাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
খালিদ মাহমুদ বলেন, পিসিবির অবস্থান নীতিগতভাবে প্রশংসনীয় হলেও বাস্তববাদী হওয়া জরুরি, ‘বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের দাবিতে পাকিস্তান ছাড়া আর কোনো বোর্ড সমর্থন দেয়নি। এটা বাস্তবতা। তাই পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বার্থকে কেন্দ্রেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
সাবেক টেস্ট ব্যাটার, সাবেক প্রধান নির্বাচক ও কোচ মহসিন খানও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যা আছে; কিন্তু আমরা তো শ্রীলঙ্কায় খেলছি। তাছাড়া শুনেছি বাংলাদেশ বোর্ডও আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে না। তাহলে পাকিস্তান কোন যুক্তিতে সরে দাঁড়াবে? এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর হবে।’
সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম–উল হক ও মোহাম্মদ ইউসুফও সতর্ক কণ্ঠে বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবদিক বিবেচনা করা জরুরি।’
ইনজামাম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলুক। আমাদের দলে ভালো খেলোয়াড় আছে, বড় মঞ্চে ভালো করার প্রয়োজন রয়েছে।’
সাবেক টেস্ট ব্যাটার ও সাবেক কোচ–নির্বাচক হারুন রশিদ মনে করেন, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবেই, ‘বাংলাদেশকে সমর্থন করা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এখন আমাদের নিজেদের ক্রিকেটের স্বার্থও দেখতে হবে। সরে দাঁড়ানোর মতো যথেষ্ট কারণ নেই।’
সব মিলিয়ে, মাহসিন নাকভির অবস্থান ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো নয়, বরং মাঠে নেমেই দেশের ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছেন সাবেক তারকারা।
আইএইচএস/