বিনোদন

তারেক রহমানের প্রেরণা কি তবে সেই প্রেসিডেন্ট, কী আছে সিনেমাটিতে

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এসেই নেমে পড়ছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। দেশ গড়ার নানা স্বপ্ন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান তিনি। মানুষের কথা শুনতে ও জানতে তিনি ছুটছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া।

তাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন তার প্রিয় একটি সিনেমার কথা। সেই সিনেমার নাম ‘ওয়ান ফোর্স ওয়ান’। একবার দুইবার নয়, ৮ বার সিনেমাটি দেখেছেন তারেক। এই খবর টাইম ম্যাগজিনের কল্যাণে পৌঁছে গেছে তারেক রহমানের কোটি অনুসারীদের কাছে। সবাই কৌতুহলী হয়েছেন ছবিটি নিয়ে। কী আছে ছবিটিতে?আরও পড়ুনযে সিনেমাটি ৮ বার দেখেছেন তারেক রহমানসেই ছোট্ট ‘ভুতু’ এখন অনেক বড়, করলেন জয়ার ছোটবেলার চরিত্র

সাধারণত এয়ার ফোর্স ওয়ান বলতে যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কল সাইনকে বোঝায় যা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে বহন করে এমন কোনো বিমানের জন্য প্রযোজ্য হয়। ১৯৯০ সাল থেকে রাষ্ট্রপতির ফ্লাইটগুলো দুটো বিশেষভাবে নির্মিত বোয়িং ৭৪৭-২০০বি সিরিজের বিমান দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। এই দুইটি বিমানে ইউনাইটেড স্টেটস মিলিটারি সিরিয়াল নম্বর হচ্ছে ২৮০০০ ও ২৯০০০। এই বিমানগুলোকে শুধুমাত্র তখনই এয়ার ফোর্স ওয়ান বলা হয় যখন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং এটাতে উপবিষ্ট থাকেন।এয়ার ফোর্স ওয়ান ছবির একটি দৃশ্য

যদি কখনো রাষ্ট্রপতি অন্য কোনো বিমানেও সফর করেন তখন সেটিকেও এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে পরিগণিত হবে। বলা যায়, এয়ার ফোর্স ওয়ান মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার একটি প্রতীক।

সেই প্রতীককে ঘিরেই একই নামে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ সিনেমাটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়। এটি হলিউডের বহুল জনপ্রিয় একটি আমেরিকান রাজনৈতিক অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা। পরিচালনা করেছেন ওল্ফগ্যাং পিটারসেন। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউড সুপারস্টার হ্যারিসন ফোর্ড। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেমস মার্শালের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

গল্পে দেখা যায়, কাজাখস্তানের এক নিষ্ঠুর স্বৈরশাসককে গ্রেফতারের পর প্রেসিডেন্ট মার্শাল রাশিয়া থেকে দেশে ফিরছিলেন। পথে তার বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান সন্ত্রাসীদের দ্বারা হাইজ্যাক হয়। সন্ত্রাসীরা তাদের নেতাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি তোলে এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারসহ যাত্রীদের জিম্মি করে।সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জীবন বাজি লড়েছিলেন সিনেমার সেই প্রেসিডেন্ট

সবাই মনে করে প্রেসিডেন্ট বিমান থেকে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি বিমানের ভেতরেই লুকিয়ে থেকে একে একে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতে থাকেন। নিজের পরিবার, যাত্রীদের জীবন এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তিনি একাই লড়াই চালিয়ে যান।

এই ছবিতে প্রেসিডেন্টকে কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক নয় বরং একজন সাহসী যোদ্ধা হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ, সন্ত্রাসবাদ, পারিবারিক আবেগ এবং দেশপ্রেম - সব মিলিয়ে সিনেমাটি দর্শকদের টানটান উত্তেজনার মধ্যে রাখে।পরিবার, বিমানের যাত্রী ও দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রেখে লড়েন প্রেসিডেন্ট চরিত্রের হ্যারিসন ফোর্ড

বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পায় ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’। বিশ্বজুড়ে ছবিটি আয় করে ৩১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। দুটি অস্কার মনোনয়নও পায় ছবিটি। আজও এটি রাজনৈতিক অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার অন্যতম স্মরণীয় সিনেমা হিসেবে বিবেচিত।শত সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশের নেতৃত্ব নেয়ার জন্য লড়ছেন তারেক রহমান

তারেক রহমান যখন এই ছবিটিকে নিজের পছন্দের একটি হিসেবে প্রকাশ করেছেন তখন অনুমান করা যাচ্ছে, সিনেমায় বিমানে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া সেই প্রেসিডেন্ট চরিত্রটিই তার প্রিয়। যিনি মৃত্যুর ভয়ে ভীত নন। বরং জীবন বাজি রেখে লড়েছেন পরিবার, যাত্রীদের জীবন এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য। তারেক রহমান কি পারবেন জনগণের আশা প্রত্যাশাকে আঁকড়ে ধরে নানা সংকটে নিমজ্জিত তার জন্মভূমি বাংলাদেশকে রক্ষা করতে?

নিশ্চয়ই সময় দেবে এই প্রশ্নের জবাব।

 

এলআইএ