রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শীত উৎসব ১৪৩২ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বইছে উৎসবের আমেজ। বাহারি সব পদের পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শীত উৎসব যেন পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে শীত উৎসব শুরু হয়। একই সঙ্গে রয়েছে নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি, রম্য বিতর্কসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন। দুই দিনব্যাপী এ শীত উৎসব বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে চলবে ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার রাত পর্যন্ত।
সরজমিনে দেখা যায়, দেশি-বিদেশি বাহারি সব পদের পিঠা নিয়ে ৩৯ স্টল বসেছে। এসব স্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা সমিতি ও স্থানীয়রা দিয়েছেন। পিঠার পাশাপাশি স্টলের নামগুলোর মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্যময়তা। ভুংচং, পিঠাঘর, রাজশাহী জেলা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা সমিতির নামে স্টল।
স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে বাহারি সব পিঠা যার মধ্যে রয়েছে, মেয়েদের মন, ব্রেকআপ পিঠা, ব্রাকসু পিঠা, বয়ফ্রেন্ডের মাথা খা, পুকি, হৃদয় হরণ, কমলাসুন্দরী, ঝাল পিঠা, রসালো কলা পিঠা, ডিম কুলি, ফুল ঝুড়ি, নকশি পিঠা, পাটিসাপটা, ঝিনুক পিঠা, দুধ পুলি, দুধ চিতই নারিকেলপুলি, মালপোয়া, নোনাসপিঠা, টোপা, মোরগ, জামাই মালাই রোল, বরফি তেলে পিঠা, চন্দ্রপুলি, লতিকা গোলাপ পিঠা, বিবিখানা, নকশি নবাব কদম, মালঞ্চ পিঠা।
এছাড়া স্টলগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রকমের পায়েস কেক যার মধ্যে রয়েছে, কাপ কেক, পুডিং, চট্টগ্রামের সাধু সন্দেশ, ইন্ডিয়ান ঘেওয়ার, পাবনার খেজুরের সন্দেশ, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মন্ডা, তুর্কি তুলুম্বা, কুড়িগ্রামের বিখ্যাত ক্ষিরমোহরসহ বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত সব খাবার।
উৎসব ঘুরতে আসা দর্শনার্থী তিশা বলেন, শীত প্রায় শেষের দিকে হলেও পিঠা উৎসবের আয়োজন দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। এমন আয়োজন শীতের আমেজটা আবার নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হাসি খাতুন বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের প্রথম শীত উৎসব। এমন আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছে। এখানে অনেক ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে, যা সত্যিই উপভোগ করছি।
মো. আজিজুর রহমান/এএইচ/জেআইএম