লাইফস্টাইল

পুরোনো এলপিজি সিলিন্ডার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

নগরজীবনের রান্নাঘরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এখন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই সিলিন্ডারের বয়স, গুণগত মান বা নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কতটা ভাবি?

বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের অনেক দুর্ঘটনা ঘটে পুরোনো, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ভুলভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সিলিন্ডার ব্যবহারের কারণে। সিলিন্ডারের গায়ে থাকা কিছু চিহ্ন ঠিকভাবে পড়তে পারলে অনেক এধরনের বেশকিছু ঝুঁকি আগেই এড়ানো সম্ভব।

১. মেয়াদপ্রথমেই আসা যাক সিলিন্ডারের মেয়াদ প্রসঙ্গে। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর পর নিরাপত্তা পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। এই পরীক্ষাকে বলা হয় হাইড্রোস্ট্যাটিক টেস্ট। সিলিন্ডারের গায়ে সাধারণত মাস ও বছরের কোড দেওয়া থাকে - যেমন এ-২৫, বি-২৬ ইত্যাদি। এখানে অক্ষর দিয়ে বোঝানো হয় কোন ত্রৈমাসিকে পরীক্ষা হয়েছে, আর সংখ্যাটি বছর নির্দেশ করে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে সেই সিলিন্ডার ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ভেতরের ধাতব কাঠামো দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

২. রঙএরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিলিন্ডারের রঙ। অনেকেই ভাবেন রঙ কেবল কোম্পানির পরিচয়ের জন্য। আসলে রঙের মাধ্যমেও সিলিন্ডারের ধরন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য বোঝা যায়। গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার সাধারণত নির্দিষ্ট উজ্জ্বল রঙে রাঙানো হয়, যাতে লিক বা ক্ষয় সহজে চোখে পড়ে। রঙ ফ্যাকাসে হয়ে গেলে, খোসা উঠলে বা মরিচা ধরলে সেটি স্পষ্ট সতর্ক সংকেত। মরিচা ধরা সিলিন্ডার মানে ধাতু ক্ষয়ে যাচ্ছে, যা যেকোনো সময় লিক বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

৩. সিল ও ভালভ সিল ও ভালভ হলো আরেকটি অবহেলিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন বা নিরাপদ সিলিন্ডারের মুখে সরকারি বা অনুমোদিত কোম্পানির সিল থাকে, যা ভাঙা বা নষ্ট থাকার কথা নয়। সিল ঢিলা, কাটা বা আগেই খোলা থাকলে সেই সিলিন্ডার গ্রহণ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। একইভাবে ভালভে ফাটল, তেলচিটে ভাব বা গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

অনেকে মনে করেন, গ্যাস ঠিকঠাক জ্বললেই সিলিন্ডার নিরাপদ। বাস্তবে এটি একটি ভুল ধারণা। পুরোনো সিলিন্ডারে শুরুতে কোনো সমস্যা না থাকলেও চাপের কারণে হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় বা রান্নাঘরের বায়ু চলাচল কম হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো, সিলিন্ডার নেওয়ার সময় গায়ে লেখা তথ্য ভালো করে দেখা, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ফিরিয়ে দেওয়া এবং সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে অভিযোগ জানানো। সামান্য সচেতনতাই পারে বড় দুর্ঘটনা থেকে পরিবারকে নিরাপদ রাখতে।

সূত্র: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নির্দেশিকা।

এএমপি/এএসএম