রাজনীতি

মানবিকতা ও রাজনৈতিক বার্তায় মুখর ঢাকা-১৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণার মাঠ স্লোগান, মিছিল আর রাজনৈতিক উত্তাপে ভরপুর। তবে ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) নির্বাচনি মাঠে মানবিকতা, আবেগ ও রাজনৈতিক বার্তার এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

আজ সকালে ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক মিরপুর সেকশন সাত এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন। সকাল থেকেই তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। স্লোগানে মুখরিত মিছিলটি সেকশন সাতের একটি সড়ক অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি মরদেহ নজরে আসে। বিষয়টি দেখামাত্রই আমিনুল হক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের নির্বাচনি স্লোগান ও প্রচারণা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

আমিনুলের নির্দেশে মুহূর্তেই থেমে যায় কোলাহল। এরপর সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নিহত ব্যক্তির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনেকেই প্রার্থীর এমন মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন। দোয়া শেষে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমিনুল হক। 

তিনি বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি। দশম দিনের মতো আমার গণসংযোগ চলছে। স্থানীয় মুরুব্বি ও মুক্তিযোদ্ধারা আজ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্রের জন্য মাঠে নেমেছেন—এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী করছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে প্রতিপক্ষ দল নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, সাধারণ মানুষের এনআইডি নম্বর সংগ্রহ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আমিনুল হক আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। যদি অপতৎপরতা রুখে দেওয়া যায়, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে একটি ‘ভোট বিপ্লব’ ঘটবে।

উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন/ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে রূপনগর থানার আরিফাবাদ ও আলুব্দী গ্রামে নির্বাচনি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সহস্রাধিক স্থানীয় ভোটারের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের পাশাপাশি জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরা সদস্য ও রূপনগর থানা জামায়াতের আমির মো. আবু হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. নাসির উদ্দীন। সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ওয়ার্ড প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উঠান বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদার কথা তুলে ধরলে নেতৃবৃন্দ সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এসএম/এমএমকে