জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড ও ৩টি বিদেশি পিস্তল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র মজুদ করা হয়েছিল। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে এনএসআইয়ের গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান পরিচালনা করা হয় যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িআগ্রা গ্রামে চুন্নু মোল্লার বাড়িতে। সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আকিবের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ওই বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল (৭.৬৫ এমএম, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত), ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি খুর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বাড়ির সদস্যরা পালিয়ে যায়। অভিযানে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লাকে (২৮)। তিনি দড়িআগ্রা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো দিয়ে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল। বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এসব অস্ত্র জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারত।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আবুল বাশার জানান, যৌথবাহিনীর অভিযানে দশটি গ্রেনেডসহ বিপুল অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
মিলন রহমান/এফএ/এমএস