রাজধানীতে বিচারপ্রার্থী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. শামসুল ইসলাম নামে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ২৯ জানুয়ারি এই ঘটনা ঘটে। পরদিন ৩০ জানুয়ারি অভিযুক্তকে আদালতে নেওয়া হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) নারী ও শিশু সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় অবস্থিত অভিযুক্ত আইনজীবীর নিজস্ব চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত আইনজীবীর চেম্বারে গেলে তিনি প্রথমে তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করেন এবং বলেন, ‘তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?’ পরে ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে চাইলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মামলায় আগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। পরে অভিযুক্ত আইনজীবী মো. শামসুল ইসলামের মাধ্যমে গত বছরের ২৪ জুন তিনি আদালত থেকে জামিন পান। এরপর থেকে ওই আইনজীবীর মাধ্যমেই প্রতি মাসে মামলার হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক রয়েল হোসেন আদালতে দাখিল করা আবেদনে জানান, চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য ভুক্তভোগী নারী কয়েকদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী নারী আবারও মামলার তারিখ জানতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী পরে যোগাযোগ করতে বলেন। ওইদিন রাতে আবার ফোন করলে তাকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় চেম্বারে যেতে বলা হয়। রাত ৯টার দিকে সেখানে গেলে দেখা যায়, আইনজীবী একা অবস্থায় ফোনে কথা বলছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, মামলার তারিখ জানার পর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমে বলেন, ‘তিনি ওয়ারীতে আমাদের একই এলাকায় থাকেন। সে কারণে তাকে কাকা বলে ডাকতাম। তার মাধ্যমেই আমার জামিন হয়েছিল। কিন্তু পরে মামলার তারিখ জানাতে টালবাহানা করতে থাকেন। ওইদিন অফিসে গেলে জোর করে ধর্ষণ করেন। আমি এর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
মামলা দায়েরের পর শুক্রবার পল্টন মডেল থানা-পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করলেও আদালত কোনো জামিন শুনানি ছাড়াই তাকে কারাগারে পাঠান বলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) নারী ও শিশু জিআর শাখা সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল হোসেন জানান, মামলাটি তদন্তাধীন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী নারীকে আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এমডিএএ/এএমএ