আদালতে ক্ষমা চেয়েও নির্বাচনি প্রচারণায় প্লাস্টিকের সামগ্রী সরাননি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড.কেরামত আলী।
নির্বাচনি প্রচারণায় প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ড.কেরামত আলীসহ দু’জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় অনুসন্ধান কমিটি। নোটিশ পেয়ে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. উজ্জ্বল মাহমুদের আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং জেলার দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের উপজেলা নায়েবে আমির গোলাম আজম। এসময় নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের দাঁড়িপাল্লা সরিরে নিবেন বলেও জানান তারা।
এরপরেও নিষিদ্ধ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি দাঁড়ি পাল্লার একটিও প্রতীক সরায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচনি প্রচারণায় প্লাস্টিকের সামগ্রীর একেকটি টাওয়ার ২০ ফিট থেকে ৩০ফিট পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে। এতে প্লাস্টিক ও বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে পথচারীসহ যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের শ্যামপুর, বিনোদপুর, কানসাট, পুকুরিয়া, মোবারকপুর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত প্রার্থী কেরামত আলীর পক্ষে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় প্লাস্টিকের দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্লাস্টিক জীববৈচিত্র ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিষেধ করার পরেও জামায়াতের লোকজন জোর করেই বাড়ির উঠানে, রাস্তার পাশে, অলিগলিতে বাঁশ দিয়ে টাঙিয়ে রেখে যাচ্ছে। নিষেধ করলে হুমকি ধামকিও দেওয়া হচ্ছে দলটির পক্ষে।
পরিবেশবিদদের ভাষ্যমতে, প্লাস্টিক ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই প্লাস্টিকগুলো কোনোভাবেই মাটির সঙ্গে মিশে না। এইগুলো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। আবার এইগুলো যখন পুড়িয়ে ফেলা হয়, তখনও বায়ু দূষণ হয়। প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
তাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানলে এবং প্রার্থীরা পরিবেশের ব্যাপারে সচেতন হলে এসব করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অনেক প্রার্থী বা তাদের অতিউৎসাহী কর্মীরা এই কাজগুলো করছেন।
এ বিষয়ে জানতে জামায়াতের প্রার্থী ড.কেরামত আলীর মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলে ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ বলেন, প্রচারণা প্রতীকে প্লাস্টিকের ব্যবহারের বিষয়ে এরই মধ্যে অনুসন্ধান কমিটির কাছে সশরীরে হাজিরা দিয়েছেন। আইন না মানলে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোহান মাহমুদ/এনএইচআর/জেআইএম