হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা পৃথক পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভকেট মো.মোতাহার হোসেন সাজু। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান নজরুল।
হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ (জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে) নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান নজরুল।
এই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা এবং অপরটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক আবেদন করেন কারাগারে থাকা সেলিনা হায়াৎ। পরে আবেদনগুলো আজ শুনানির জন্য ওঠে।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর জামিন পান আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। শুনানি নিয়ে আপিল চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
আদেশের বিষয়ে আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথমে পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আইভী। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে জামিন স্থগিত হয়। যেদিন হাইকোর্ট থেকে জামিন পান, সেদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়, যা গত বছরের ১৮ নভেম্বর মঞ্জুর হয়।’
তিনি জানান, হত্যার অভিযোগসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন আজ পাঁচ মামলায় জামিনের বিষয়ে আরও বলেন, ‘এই পাঁচ মামলার এজাহারে আইভীর নাম নেই, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন, তদন্তেরও কোনো অগ্রগতি নেই- এসব যুক্তিতে আইভীর জামিন চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়ে আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।’
২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে টানা জয়ী হন তিনি।
এফএইচ/জেএইচ/বিএ/এএসএম