মিশরের কায়রোতে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশি কওমি শিক্ষার্থীদের সংগঠন আওসবির ‘সৌহার্দ্যের সিয়ামসন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আজহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ, মিশর (আওসবি)-এর উদ্যোগে এই ইফতার অনুষ্ঠান হয়। কায়রো ইন্টারন্যাশনাল পার্কে আয়োজিত এই মিলনমেলা অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার-পরিজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি কওমি ও সমমনা শিক্ষার্থীদের সুপরিচিত এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত ‘সৌহার্দ্যের সিয়ামসন্ধ্যা’ রূপ নেয় এক বৃহৎ সামাজিক ও পারিবারিক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও নবীন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করে ৪০টিরও বেশি পরিবার এবং শিশু-কিশোররা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহারে অধ্যয়নরত পিএইচডি ও এমফিল গবেষক, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বিকেলের পড়ন্ত আলোয় সবুজ ঘাসের ওপর শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত আলোচনা-আড্ডা এবং শিশুদের হাসি-কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পার্ক প্রাঙ্গণ। কচিকাঁচাদের জন্য ছিল খেলাধুলা, ট্রেন রাইড ও বর্ণিল বেলুন উৎসবের বিশেষ আয়োজন।
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াব স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বিপুল শিক্ষার্থী, নারী ও শিশু-কিশোরের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে আল-আজহারের পিএইচডি ফেলো ও হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক মোশাররফ হোসেন আজহারীর দোয়ার মাধ্যমে আলোচনা পর্ব সমাপ্ত হয়।
ইফতারে পরিবেশন করা হয় খেজুর, বিভিন্ন ধরনের জুস, মোরগ পোলাও, কুফতা রাইস, দেশি মুরগি, ভুনা খিচুড়িসহ দেশি-বিদেশি নানা পদ। সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক আপ্যায়নে অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহুল হক মেরাজী জানান, সম্প্রতি নতুন কার্যনির্বাহী প্যানেল ঘোষণার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বৃহৎ আয়োজন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এমন বিশাল আয়োজন নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সভাপতির নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা সফলভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা রাখি।
পড়ন্ত বিকেলে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, আলোচনা, দোয়া, ইফতার ও সম্মিলিত নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজনটি। খোলা আকাশের নিচে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা সত্যিই হয়ে ওঠে সৌহার্দ্য, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এমআইএইচএস/