কিশোর-কিশোরীদের মানসিক সুরক্ষা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ইনস্টাগ্রাম। সুইসাইড, আত্মহত্যা বা সেলফ-হার্ম সংক্রান্ত বিষয় বারবার খোঁজার চেষ্টা করলে এবার সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠানো হবে অভিভাবকদের কাছে। এই নতুন ব্যবস্থার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে মেটা প্ল্যাটফর্মস। আইনি চাপের মুখে থাকা সংস্থার এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিষেবাটি চালু হবে। ২০২৬ সালের শেষে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয় শুধু ‘প্যারেন্টাল সুপারভিশন’ টুলের আওতায় থাকা কিশোর-কিশোরীদের অ্যাকাউন্টেই অ্যালার্ট সক্রিয় হবে। অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার আত্মহনন-সংক্রান্ত শব্দ সার্চ করলেই সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।
অভিভাবকরা ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা সরাসরি অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এই বার্তা পাবেন। শুধু সতর্ক করেই দায়িত্ব শেষ নয় সন্তানের সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কীভাবে কথা বলতে হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও জানানো হবে।
আরও পড়ুনইনস্টাগ্রামে আসছে নতুন এআই ফিচার, যেসব সুবিধা পাবেনইনস্টাগ্রামে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলো কি না জানবেন যেভাবে
এর আগে ইনস্টাগ্রাম আত্মহত্যা সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট শব্দের সার্চ বন্ধ করে দিয়েছিল এবং তার বদলে হেল্পলাইন ও সহায়তাকারী সংস্থার তথ্য দেখাত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কিশোররা বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে একই ধরনের বিষয়বস্তু খুঁজে নিচ্ছে। তাই আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মেটা জানিয়েছে, তাদের ‘সুইসাইড অ্যান্ড সেলফ-হার্ম অ্যাডভাইজরি গ্রুপ’-এর সঙ্গে আলোচনা করেই অ্যালার্ট ব্যবস্থার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভুলবশত সতর্কবার্তা চলে গেলেও তারা সতর্কতাকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইনি চাপও। সম্প্রতি মার্ক জাকারবার্গ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, যেখানে অভিযোগ উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে নাবালকদের আসক্ত করে তুলছে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রবণতা বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়া এরই মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ফ্রান্স, ডেনমার্ক, স্পেন ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের আইন আনার উদ্যোগ চলছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে অন্যান্য দেশ কি আগাম সতর্ক হয়ে অনুরূপ ব্যবস্থা নেবে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রয়োজন। এখন দেখার, এই নতুন ফিচার বাস্তবে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় কতটা কার্যকর হয়।
কেএসকে