রাতে হালকা ঠান্ডা থাকলেও দিনে রোদের তেজ বেশি থাকায় গরম অনুভুত হচ্ছে। যা জানান দিচ্ছে গরমের মৌসুম এসে গেছে, আর স্বাচ্ছন্দ্যময় ঘরে থাকার জন্য অনেকেরই নতুন এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কেনার পরিকল্পনা শুরু। তবে তাড়াহুড়ো করে বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এসি বেছে নেওয়া অনেক সময় ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘর যথেষ্ট শীতল না হওয়া, বিদ্যুতের বিল আকাশছোঁয়া হওয়া, বা দ্রুত সার্ভিস সমস্যার মুখে পড়া এসব সমস্যা মূলত তিনটি কারণে হয়: সঠিক ক্ষমতা না দেখা, নতুন প্রযুক্তি উপেক্ষা, এবং ব্র্যান্ড বা সাপোর্টকে গুরুত্ব না দেওয়া। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই, কোন ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে। বাড়াতে পারে বিদ্যুৎ খরচ-
১. শুধু টনেজ দেখে এসি নির্বাচন করানতুন এসি কেনার সময় সবচেয়ে সাধারণ ভুল হল শুধু টনেজের ওপর নির্ভর করা। বাজারে ১ টন, ১.৫ টন বা ২ টন এসির প্রচুর বিকল্প পাওয়া যায়। অনেকেই ধরে নেন যে ঘর ছোট হলে ছোট এসি, বড় হলে বড় এসি পর্যাপ্ত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
ঘরের আকারের পাশাপাশি শীতলীকরণের ক্ষমতা (ওয়াটে), সিলিং উচ্চতা, জানালার সংখ্যা ও আকার, সূর্যালোক প্রবেশের পরিমাণ এবং ঘরের অন্তরণ এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার। ছোট এসি হলে কম্প্রেসার দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকে, যা বিদ্যুতের অতিরিক্ত খরচ এবং ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা না হওয়ার কারণ। আবার বড় এসি বারবার চালু ও বন্ধ হয়, যা শক্তি অপচয় করে।
নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী, ১০০-১২০ বর্গফুটের ঘরের জন্য ১ টন, ১২০-১৮০ বর্গফুটের ঘরের জন্য ১.৫ টন, এবং তার চেয়ে বড় ঘরের জন্য ২ টন এসি উপযুক্ত। ঘরের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে সঠিক টনেজ নির্বাচন করুন।
২. স্টার রেটিং অবহেলা করাএসি কেনার সময় স্টার রেটিংও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই প্রথম দেখেই কম দামের কারণে ৩-স্টার বা তার কম রেটিংয়ের এসি বেছে নেন। তবে ৫-স্টার ইনভার্টার এসি ব্যবহার করলে দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ব্যবহারেও বিদ্যুতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তুলনামূলকভাবে ৩-স্টার এসি সস্তা মনে হলেও, কয়েক মাসের মধ্যেই তার বিদ্যুতের অতিরিক্ত খরচ ৫-স্টার মডেলের প্রাথমিক মূল্য পার করতে পারে।
৩. ইনভার্টার প্রযুক্তি উপেক্ষা করানন-ইনভার্টার এসি প্রথম দিকে কম খরচের মনে হতে পারে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি ব্যয় সৃষ্টি করে। কারণ নন-ইনভার্টার এসিতে কমপ্রেসার বারবার চালু ও বন্ধ হয়। এতে বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যায় এবং ঘরও সমানভাবে শীতল থাকে না।
ইনভার্টার এসি কম্প্রেশারের গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি দ্রুত শীতলতা দেয়, নীরবভাবে কাজ করে এবং বিদ্যুতের সাশ্রয় ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত করতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ এসি চালানো হলে ইনভার্টার প্রযুক্তি জীবনের মান এবং বিদ্যুতের ব্যয় উভয়ই নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৪. ব্র্যান্ড, পরিষেবা ও অতিরিক্ত ফিচারকে অবমূল্যায়নদাম বা নামের প্রতি আস্থাই আরেকটি বড় ভুল। একটি স্বনামধন্য ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যেখানে দেশজুড়ে সাপোর্ট সেন্টার, ১০ বছরের ওয়ারেন্টি (কম্প্রেসার), অটো-ক্লিনিং, কুপার কনডেন্সার এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ফিচার রয়েছে।
ভাল সার্ভিসের অভাব বা খারাপ ইনস্টলেশন ভবিষ্যতে বিদ্যুতের বিল বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া অল্প খরচে সস্তা এসি কেনার চেষ্টা করলে ইনস্টলেশন সমস্যা, পানি বা গ্যাস লিকেজ এবং কম শীতলতা এসব ঝুঁকি থাকে। তাই নতুন এসি কেনার আগে সার্ভিস এবং বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা আবশ্যক।
আরও পড়ুনবাড়িতে স্প্লিট এসি পরিষ্কার করবেন যেভাবেগরমে এসি ঘামলে সতর্ক হওয়া জরুরি
কেএসকে