বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শিশু জান্নাতুল ইরাকে। চকলেটের লোভ দেখিয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে যান অভিযুক্ত বাবু শেখ। সেখানে তাকে ধর্ষণ চেষ্টার পর গলা কেটে মৃত ভেবে ফেলে যান। পরে গলাকাটা অবস্থায়ই শিশুটি হেঁটে পার্ক থেকে বেরিয়ে আসে। বাবু শেখকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
গত ১ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নিসা ইরাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে হাত ধরে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে নিয়ে যায় প্রতিবেশী বাবু শেখ। পরে গলাকাটা অবস্থায় একাই হেঁটে পার্ক থেকে বেরিয়ে আসে শিশুটি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সে।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার জানান, কুমিরার বাসিন্দা রিকশাচালক মনির হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী বাবু শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে, তার শিশুকন্যাকে হত্যার উদ্দেশে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ইকোপার্কের পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালায়। শিশুটি চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃত ভেবে ফেলে পালিয়ে যায় বাবু।
ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ। বাসা থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিরা থেকে অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চকলেটের খোসাসহ আলামত উদ্ধার করা হয়।
চমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন জানান, রিপোর্ট পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এম মাঈন উদ্দিন/এমএন/এমএস