ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ ও জেরা শেষ হয়েছে।
মামলায় প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করেন মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তানভীর হাসান জোহা। পরে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে।
মামলার প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ট্রাইব্যুনালে জব্দ করা তথ্য-প্রমাণ ও আলামতের বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, কোন তারিখে, কোথায় এবং কীভাবে এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জয় ও পলকের ফোনালাপসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, তারও বিবরণ দেন।
এর পর আসামি পলকের পক্ষে জোহাকে জেরা করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো ও জয়ের পক্ষে করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মনজুর আলম। জেরায় আমিনুল গণির প্রশ্নে জোহা বলেন, নিজেদের সার্ভার থেকে এ মামলা সংক্রান্ত রেকর্ড দিয়েছে এনটিএমসি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা হওয়ার আগে আমি সরকারের আইসিটি বিভাগের অধীনে একটি প্রকল্পে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম।
পলকের ভয়েস সংক্রান্ত কোনো অডিও-ভিডিও বা মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কিনা- আইনজীবীর প্রশ্নে না সম্বোধন করেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমি সরাসরি জব্দ করিনি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কল রেকর্ড জব্দ করেছি। তাদের কথপোকথনের মধ্যে বি-পার্টি হিসেবে পলকের ভয়েস রয়েছে। এছাড়া পলকসহ এ মামলার সব ভয়েসের ফরেনসিক পরীক্ষা করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তানভীর হাসান জোহা কখনো ডিজিএফআই বা এসবিতে ছিলেন কিনা জানতে চান আইনজীবী টিটো। জবাবে ছিলেন না বলে জানান তিনি। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এফএইচ/এমএএইচ/