অনেকেই আছেন যারা বলতে গেলে সারা বছরই হাত-পা, শরীরের পাশাপাশি চুলের গোড়া ঘামার মতো বিব্রতকর সমস্যায় ভুগে থাকেন। গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার ত্বক ভিজে যায়, যা শুধু অস্বস্তিকর নয়, স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ভেজা মাথায় দীর্ঘ সময় থাকলে ছত্রাক সংক্রমণ, খুশকি, চুলকানি, এমনকি মাথার ত্বকে ব্রণ বা র্যাশও দেখা দিতে পারে। তাই গরম ও আর্দ্র মৌসুমে চুলের যথাযথ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চুলের যত্নে প্রথমে মনে রাখতে হবে, ভেজা চুল সারাদিন ধরে ছেড়ে রাখলে চুলের গোড়া নরম থাকে না এবং চুলে জট পড়ে। তাই চুল ধোয়ার পর দ্রুত হালকা তোয়ালে দিয়ে পানি শুষে নিন। চুল ক্লিপ বা খোঁপায় বাঁধার আগে এটি পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া ভালো। এরপর প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করে চুল ও ত্বককে পুষ্টি এবং আর্দ্রতা দিতে হবে।
দই, মধু ও লেবুর রসের মাস্কদই, মধু ও লেবুর রসের মাস্ক অত্যন্ত কার্যকর। আধা কাপ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই মাস্কের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, চুলকানি ও র্যাশ কমায়। মধু চুলকে নরম ও মসৃণ করে, আর দই ও লেবু চুলের গোড়ায় জমে থাকা তেল ও ময়লা দূর করে। সপ্তাহে ১থেকে ২ দিন এই মাস্ক ব্যবহার করলে চুল স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত থাকে।
কলা ও অলিভ অয়েল চুলের জন্য প্রাকৃতিক মাস্ক হলো কলা ও অলিভ অয়েলের সংমিশ্রণ। একটি পাকা কলা ব্লেন্ড করে তার সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং ১চামচ অলিভ অয়েল মেশান। গোসলের আগে এই মিশ্রণ চুলে ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। কলা চুলে প্রাকৃতিক ময়েশ্চার যোগ করে, অলিভ অয়েল পুষ্টি দেয় এবং মধু চুলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে রুক্ষ ভাব দূর করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল কম ভাঙে এবং সহজে জট পড়ে না।
নিম ও লেবুর মাস্কনিম-লেবুর মাস্কও খুশকি দূর করতে খুব কার্যকর। একমুঠো নিমপাতা ধুয়ে বেটে নিন এবং তার সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই পেস্ট মাথার ত্বকে ২০ মিনিট ধরে মাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। নিম অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণে মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকে, আর লেবু অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ব্যবহার করলে খুশকি কমে যায়, চুল মসৃণ ও নরম থাকে।
অ্যালোভেরা ও শসার মাস্ক অ্যালোভেরা ও শসার ‘হাইড্রেটিং’ মাস্ক গরম মৌসুমে বিশেষভাবে উপকারী। ২ চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে অর্ধেক শসার রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং শসা ত্বক শীতল রাখে, ব্রণ-ফুসকুড়ি কমাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে২ দিন ব্যবহার করলে মাথার ত্বক থাকবে সতেজ, চুল নরম ও স্বাস্থ্যবান।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ফেমিনা
আরও পড়ুন:চুল পড়া বন্ধ হবে রসুন ব্যবহারে রমজানে চুলের যত্নে টমেটোর রস হতে পারে সহজ সমাধান
এসএকেওয়াই