পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সামনে রেখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঈদের এখনো প্রায় ১৫ দিন বাকি থাকলেও ময়দানজুড়ে প্যান্ডেল নির্মাণ, মাঠ সমতলকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রঙের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় ঈদগাহের খোলা ময়দানজুড়ে বাঁশের স্তূপ। শ্রমিকরা শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করছেন। কেউ রশি দিয়ে বাঁশ বেঁধে প্যান্ডেলের কাঠামো তৈরি করছেন, আবার কেউ ময়দানের ভেতরে ও আশপাশের দেওয়ালে নতুন করে রঙের প্রলেপ দিচ্ছেন। বাঁশের কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হলে ত্রিপল টানিয়ে প্যান্ডেল সম্পূর্ণ করা হবে।
এছাড়া ঈদগাহ ময়দান সমতলকরণ, ঘাস কাটা, অজুর জন্য পানির ট্যাপ স্থাপন, মোবাইল টয়লেট বসানো এবং মুসল্লিদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার কাজও চলছে। মাঠে পানি জমে থাকার আশঙ্কা দূর করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আজ ৫ মার্চ পবিত্র রমজানের ১৫তম দিন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আর প্রায় ১৫ দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল ফিতর। প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেই ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, জাতীয় ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার নারীর জন্য আলাদা জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সচিব, কূটনীতিকসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করবেন।
এদিকে ঈদুল ফিতর ২০২৬ যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমইউ/এমআইএইচএস