নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বর্জ্য পরিশোধানাগার (ইটিপি) ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৩০ এপ্রিল আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহাম্মেদ, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী এলাকায় ইটিপি ছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানা পরিচালিত হওয়ায় নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।
রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ৬ মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দূষণকারী শিল্পকারখানাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং কমিটি গঠন, দূষণের কারণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আদালতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০টি প্রতিষ্ঠান ইটিপি ছাড়াই তাদের শিল্পকারখানা পরিচালনা করছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডায়িং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডায়িং, মেসার্স রুবেল ডায়িং, বাংলাদেশ ডায়িং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডায়িং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডায়িং, মায়ের দোয়া ডায়িং, এমআর ডায়িং, আব্দুর রব ডায়িং, বিসমিল্লাহ নিড ডায়িং, শিমুল ডায়িং, রাজ্জাক ওয়াশিং এবং হাজী রাসুল ডাইংসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
এ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে রিট আবেদনকারী পক্ষ একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে, যারা ইটিপি ছাড়া পরিচালনা করছে তাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চায়।
শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু অনেক শিল্পমালিক আইনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে ইটিপি ছাড়াই কারখানা পরিচালনা করছেন। ফলে শীতলক্ষ্যা নদী দূষিত হচ্ছে এবং এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ইটিপি ছাড়া পরিচালিত শিল্পকারখানাগুলোর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে নদীদূষণ অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব।
এ রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ ১১৭টি শিল্পকারখানার মালিককে বিবাদী করা হয়েছে।
এফএইচ/এমএএইচ/