পারস্য উপসাগরে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এক নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি সুচিন্তিত সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কেন এই জরুরি পদক্ষেপ?
ইরান বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই স্টপ-গ্যাপ বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্ট আরও যোগ করেন, এটি একটি সুচিন্তিত স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা যা রাশিয়াকে বড় কোনো আর্থিক সুবিধা দেবে না। এটি শুধু সেই সব তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা বর্তমানে মাঝসমুদ্রে আটকে আছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও বর্তমান সংকট
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দেবে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়।
আমেরিকার দেশগুলো তাদের তেলের ১২.৫ শতাংশ এখান থেকে পেলেও, চীনের ক্ষেত্রে এই নির্ভরশীলতা ৪৫.৭ শতাংশ। ইরান এই পথটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
রাশিয়ার জন্য সুযোগ?
পারস্য উপসাগরের এই বিশৃঙ্খলার ফলে আপাতদৃষ্টিতে রাশিয়া লাভবান হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ৩০ দিনের এই সময়সীমা শুধু জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএম