ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে- এমন আশঙ্কায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে ভিড় বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে অনেক পাম্পে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ সময়ের তুলনায় হঠাৎ করেই জ্বালানি নেওয়ার চাপ বেড়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতে সংকটের আশঙ্কায় মোটরসাইকেল ও গাড়ির ট্যাংকি পুরোপুরি ভরে নিচ্ছেন। এতে কিছু পাম্পে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকেই বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে যদি তেল সরবরাহে সমস্যা হয়, সে আশঙ্কা থেকেই তারা আগেভাগে ট্যাংকি পূর্ণ করে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন‘সংকটের’ শঙ্কায় তেল নিতে রাতেও পেট্রোল পাম্পে গাড়ির জট পেট্রোল পাম্পে হুড়োহুড়ি, তিনশ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা
কথা হয় মোটরসাইকেল চালক ইমরানের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, খবরে দেখলাম মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাড়ছে। যদি হঠাৎ তেলের সরবরাহ কমে যায় বা দাম বেড়ে যায়, সেই চিন্তা থেকেই আজ ফুল ট্যাংকি করে নিলাম।
পরীবাগের তেল পাম্পের সামনেও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আজিম নামের এক মোটরসাইকেল চালক জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকায় রাইড শেয়ার করে সংসার চলে। যদি বাইকে তেল না থাকে তো বসে থাকা লাগবে। সংসার চালাবো কীভাবে? যদি তেল ফুরিয়ে যায়, তাই ট্যাংকি ফুল করে রাখছি- যাতে তেলের সাপ্লাই না থাকলেও চালাতে পারি।
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে তেল নিতে এসেছেন সুকদেব সাহা। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আজ অফিস বন্ধ তাই নিজেই ড্রাইভ করে আসলাম। গাড়ি তো গ্যাসে চলে, কিন্তু অবস্থা যা দেখছি যদি কয়েকদিন পরে তেল না পাওয়া যায়! তাই আপাতত তেল নিয়ে রাখছি। যদিও গাড়ি গ্যাসে চলবে, তবে বিপদে পড়লে তেলে চালাতে পারবো।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল থেকে জ্বালানি তেলের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানির মধ্যে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেট ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
এনএস/কেএসআর