নির্বাচনি জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আর্তমানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদ এবিএম সিরাজুল মামুন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে পরাজিত হলেও থেমে থাকেনি তার সামাজিক কার্যক্রম। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে শহরের জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণে প্রতিদিন কয়েকশ অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য ফ্রি ইফতারের আয়োজন করছেন তিনি।
জানা যায়, এবিএম সিরাজুল মামুন এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে খেলাফত মজলিসের ‘দেয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়েও তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তবে হারের গ্লানি তাকে জনসেবা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। গত দুই বছর ধরে তাঁর আর্থিক সহযোগিতায় এই উন্মুক্ত ইফতার কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন আসরের পর থেকেই জামতলা ঈদগাহ মাঠে শুরু হয় এই ইফতারির কর্মতৎপরতা। একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক প্রতিদিন এই কাজে সহযোগিতা করেন। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন পথচারী, রিকশাচালক, দিনমজুর ও পথশিশু এখানে পরম তৃপ্তিতে ইফতার করেন।
ইফতার কার্যক্রমের পরিচালক মো. সালেহীন বলেন, আমরা প্রতিবছরই পথচারী ভাইদের জন্য এই আয়োজন করে থাকি। আমাদের এখানে রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন অংশগ্রহণ করেন। প্রতিদিন প্রার্থী ১৫০ থেকে ১৭০ জন অংশগ্রহণ করে থাকে।
ইসলামী যুব মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, আর্তমানবতার সেবায় আমাদের এই ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। পথচারী, ছিন্নমূল এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই ইফতার আয়োজন। যাদের অনেকের হয়ত একবেলা ভাত জুটে না। পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেণি পেশার মানুষজন আমাদের ইফতারে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
এ বিষয়ে এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, রমজানে সামর্থ্যহীনদের ইফতার করানোর ব্যাপারটা আমাদের নতুন কোনো কর্মসূচি নয়। প্রায় ত্রিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে আমরা প্রতি বছরই রমজানের শুরুতেই পাঁচ-সাতশো পরিবারে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেই।
তিনি জানান, গত দুই বছর ধরে ঈদগাহ মাঠে উন্মুক্ত ইফতারের প্রোগ্রামটিও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এটি ইসলামী যুব মজলিস বাস্তবায়ন করছে। এবারও প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারে ৫০ লক্ষ টাকার ইফতার ও ঈদসামগ্রী উপহার দেওয়ার কাজ চলমান আছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ভাইয়েরা আমাদের এই কাজে সহযোগিতা করে থাকেন।
মোবাশ্বির হক/কেএইচকে/এএসএম