মৌলভীবাজারে ইফতারে জনপ্রিয় খাবার ‘আখনি পোলাও’। এ অঞ্চলের মানুষেরা নিজ বাড়িতে আখনি তৈরির পাশাপাশি রমজানে বড় হাঁড়ির আখনির স্বাদ নিতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ঢুকতে ভোলেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে মজাদার এ খাবারের স্বাদ নেন তারা। সুগন্ধি চাল, ঘি, গরম মসলা, গরু বা মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি হয় মুখরোচক খাবারটি। ইফতারে আখনির সঙ্গে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
রেস্তোরাঁভেদে আখনির দামেও রয়েছে ভিন্নতা। ৩০০-৪০০ টাকা কেজি গরুর মাংসের আখনি বিক্রি করা হয়। আর মুরগির মাংসের আখনি বিক্রি হয় ২৫০-৩২০ টাকায়।
জেলার বিভিন্ন ইফতার বাজার ও রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ইফতারির পাশাপাশি আখনি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি রেস্তোরায় লাল কাপড় দিয়ে মোড়ানো কমপক্ষে দুটি বিশাল হাঁড়ি রাখা আছে। একটি হাঁড়িতে গরুর মাংসের, অন্যটিতে মুরগির মাংসের আখনি রাখা হয়েছে। ক্রেতারা যে যার মতো করে আখনি কিনছেন। সঙ্গে পেঁয়াজু, বেগুনি, আলোর চাপ, ছোলা, জিলাপিও বিক্রি হচ্ছে এসব রেস্তোরাঁয়।
আব্দুল মোতালেব নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘মেয়ের বাড়িতে ইফতার দেওয়ার জন্য ১০ কেজি আখনি কিনেছি। এটি আমাদের জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার।’
শ্রীমঙ্গলের পানসী রেস্টুরেন্টে ইফতার করতে আসা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আখনি খুবই জনপ্রিয় খাবার। তাই বন্ধুদেরকে নিয়ে আখনি দিয়ে ইফতার করতে এসেছি। আমরা রোজার মাসে ইফতারে কম-বেশি সবাই আখনি খেতে পছন্দ করি।’
শহরের একটি রেস্তোরাঁর মালিক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমার রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন কয়েকশ কেজি আখনি বিক্রি হয়। গরু ও মুরগির মাংস দিয়ে আলাদাভাবে রান্না করা হয়। পুরো রমজান মাসে এ আয়োজন চলে। কেউ বেশি নিতে চাইলে আগে অর্ডার করতে হয়। আখনি দিয়ে ইফতার করতে অনেকেই রেস্তোরাঁয় আসেন।’
এম ইসলাম/এসআর/এএসএম