ওসাসুনা ও গেটাফের কাছে টানা দুটি ম্যাচ হেরে স্প্যানিশ লা লিগায় শিরোপা দৌড় থেকে অনেক দূরে ছিটকে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে এসেও পয়েন্ট হারাতে বসেছিল প্রায়। তবে এই ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলেই গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে তারা।
ইনজুরি সময়ে ফেদেরিকো ভালভার্দের গোলের সৌজন্যে সেল্টা ভিগোর মাঠে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। এ জয়ে শিরোপা দৌড়ে আরেকটি ধাক্কা খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে গেল রিয়াল। ২৭ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৬৩। ২৬ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৬৪।
বার্সেলোনার থেকে চার পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ার পর এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না রিয়ালের সামনে। তার ওপর এর আগের দুই ম্যাচে ওসাসুনা ও গেটাফের কাছে হারের কারণে চাপ আরও বেড়ে গিয়েছিল আলভারো আরবেলোয়ার দলের ওপর। তবে শেষ মুহূর্তের গোলে সেই চাপ কিছুটা লাঘব করলেন উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ভালভের্দে।
ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল সেল্টা ভিগো। তাদের স্ট্রাইকার বোরহা ইগলেসিয়াস প্রথম দিকেই একটি নিচু শট নেন, যা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া।
এরপরই পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ১০ম মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পাস থেকে সুযোগ পেয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র শট নেন, তবে সেটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে; কিন্তু ঠিক এক মিনিট পরই (১১তম মিনিটে) গোল পেয়ে যায় রিয়াল।
ডান দিক থেকে নেওয়া একটি শর্ট কর্নার থেকে আলেকজান্ডার-আর্নল্ড বল দেন আরদা গুলেরকে। গুলের বক্সের বাইরে নিচু পাস বাড়ান অরেলিয়েন তচুয়ামেনির দিকে। সেখান থেকে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ফরাসি মিডফিল্ডার। এটি ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর লা লিগায় চুয়ামেনির প্রথম গোল।
তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে সমতা ফেরায় সেল্টা ভিগো। লম্বা পাসে বাম দিক দিয়ে দৌড়ে গিয়ে ট্রেন্টকে পরাস্ত করেন উইলিয়ট সুইডবার্গ। এরপর বক্সে ঢুকে ডান পায়ে বল কেটে এনে পাস বাড়ান বোরহা ইগলেসিয়াসের দিকে। সহজ সুযোগে গোল করতে ভুল করেননি তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেল্টা আরও এগিয়ে যেতে পারত। বক্সে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় বল পেয়েছিলেন সুইডবার্গ, তবে কুর্তোয়া অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সেল্টা গোলরক্ষক আয়োনুত রাডু।
৭১ মিনিটে পেনাল্টির দাবি তোলে রিয়াল, যখন ফেরান জুটগলার হাতে বল লাগে। তবে ভিএআর পরীক্ষা শেষে পেনাল্টি না দিয়ে রিয়ালের বদলি খেলোয়াড় সিজার পালাসিওসের আগের একটি ফাউল ধরা হয়।
এরপর রিয়ালের আন্তোনিও রুডিগারের একটি শট উঁচু দিয়ে বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে ম্যাচের শেষ দিকে সেল্টাও বড় সুযোগ পায়। ইয়াগো আসপাস বক্সের ভেতরে ঢুকে নিচু শট নেন, যা কুর্তোয়াকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচ তখন প্রায় ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। বক্সের বাইরে একটি আলগা বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন তিনি। বলটি সেল্টা ডিফেন্ডার মার্কোস আলোনসোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়, ফলে কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক রাডুর।
এই নাটকীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পায় রিয়াল মাদ্রিদ। সামনে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের আগে এই জয় দলটিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাসও এনে দিল।
আইএইচএস/